Published on
:
2 min read
এই সময়, বর্ধমান: পুজোয় সিপিএমের বুক স্টল নিয়ে তপ্ত হয়েছে বঙ্গ রাজনীতি। পূর্ব বর্ধমানেও তার আঁচ পড়েছিল। বুক স্টল ভাঙচুর হওয়া সত্ত্বেও পুজোর দিনগুলিতে সিপিএমের কর্মীরা জেলা জুড়ে বিভিন্ন ভাবে বই বিক্রি চালু রেখেছিল। আর এতেই এ বার বই বিক্রিতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বামপন্থীরা। যা সিপিএমের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
জেলা সিপিএম অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বার কয়েক লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে বর্ধমান শহরেই বই বিক্রি হয়েছে ৯৬ হাজার ৬২২ টাকার। যা অন্য বছরগুলির থেকে অনেকটাই বেশি। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অপূর্ব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের এ বার বুকস্টলের সংখ্যাও বেশি হয়েছিল। পুজোর আগে থেকে সিপিএমের বুক স্টল করা নিয়ে যে ভাবে হুমকি, ভাঙচুর করা হয়, তাতে সিপিএম কর্মীদের জেদ বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমাদের স্টলে বহু সাধারণ মানুষ এসেছেন বই দেখতে, কিনতে।
বর্ধমান শহর থেকে গলসি, মেমারি থেকে গুসকরা, কাটোয়া সমেত জেলার প্রায় সর্বত্রই বুকস্টল ছিল। হামলাও হয়েছে। তার পরেও বুক চিতিয়ে স্টল রক্ষা করেছে আমাদের কর্মীরা। বর্ধমান শহরে সিপিএমের বুক স্টলে হামলা হয়েছে। আবার মেমারির পাল্লা ক্যাম্প বাজারে অষ্টমীর দিন রাতে সিপিএমের বুকস্টল ভেঙে দেয় দুষ্কৃতীরা। পরের দিন অভিনব কায়দায় সেখানে বুক স্টল চালু করে সিপিএম।’
যেখানে ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে ভ্রাম্যমাণ বুক স্টল খুলে প্রতিবাদ জানান সিপিএম কর্মীরা। সিপিএমের জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘বার বার এটাই প্রমাণিত হয়েছে শাসকের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সবার আগে করেছে বামপন্থীরা। আক্রান্ত হয়েছে তারাই। তার পরেও হুমকি, হামলার ভয়কে উপেক্ষা করে দলের নেতাকর্মীরা এগিয়ে গিয়েছে বারে বারে। এ বারও বুক স্টল নিয়ে সেই একই ঘটনা হয়েছে। শাসক তার সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ চালিয়েছে। আমাদের কর্মীরা সেই ভয়কে উপেক্ষা করে প্রতিরোধ করেছে। যাঁরা বই কিনেছেন, স্টলে এসে বই দেখেছেন তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। কারণ, মানুষও দেখতে চেয়েছে এ বার আমরা কী বই বিক্রি করি। আমরা সমাজ গড়ার বই বিক্রি করি, সেটা তাঁরা দেখেছেন।’
