ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার রনহাট্টা চৌরঙ্গী এলাকায় সম্পত্তির লোভে নিজ স্ত্রী, সন্তান ও জামাতার বিরুদ্ধে এক পিতাকে পরিকল্পিতভাবে ‘পাগল’ বা মানসিক ভারসাম্যহীন সাজানোর চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পিতা আব্দুল কাদের নিজেই এই মর্মান্তিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল কাদের জানান, তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে জুয়েলারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি নিয়মিত প্রাইভেটকার চালানো এবং স্থানীয় জুয়েলারি মালিক সমিতির নির্বাচিত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির দিকে নজর পড়ে স্ত্রী নাসিরুন, ছেলে মাসুদ রানা, দুই মেয়ে আদিরুন ও আকসেমা এবং জামাতা শাহজাহান কবিরের।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, তাদের নামে সম্পত্তি লিখে দিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা তাকে পরিকল্পিতভাবে পাগল প্রমাণের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে তাকে জোরপূর্বক রংপুরের 'মনবাড়ি সাইকিয়াট্রিক কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার'-এ ২৮ দিন আটকে রাখা হয়।
নিজের সুস্থতার পক্ষে জোরালো দাবি করে আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমি শতভাগ সুস্থ মানুষ। স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ আমার পক্ষে গণস্বাক্ষর দিয়েছেন। এমনকি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও মেডিকেল সনদপত্র অনুযায়ীও আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তার ভাতিজা জসিমউদ্দীনও তার চাচা সম্পূর্ণ সুস্থ বলে নিশ্চিত করেন।
শুধু সম্পত্তি লিখে না দেওয়ার অপরাধে নিজের পরিবার তাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন ও চরম মানসিক অত্যাচার করছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী পিতা। নিজের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষায় বাধ্য হয়ে তিনি ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
