October 13, 2026, 8:12 am
অর্থনীতি পাল্টে দিচ্ছে বিশ্বরাজনীতি
Reporter Name
- Update Time : Tuesday, October 13, 2026
- 14 Time View
অর্থনীতি ডেস্ক: ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর মস্কোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল ওয়াশিংটন। রুশ অর্থনীতিকে ধ্বংস করে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাসের লক্ষ্য নিয়ে অসংখ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ভারত বা চীন যদি মস্কোর কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনে, তবে তাদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের বাস্তবতায় সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন প্রশাসন। নিজেদের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি রক্ষা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন উল্টো রাশিয়া থেকেই কোটি কোটি টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন এই নীতি বদলের পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ও অর্থনৈতিক সংকট প্রধান ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ, কৃষক ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় টিকে থাকতে এবং আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং এর দাম কমানো বর্তমান প্রশাসনের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে, হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতেই ওয়াশিংটন মস্কোর ওপর দেওয়া নিজেদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে নিজস্ব স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে অনেক উন্নয়নশীল দেশও তাদের জ্বালানি কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেই যখন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির পথ বেছে নিয়েছে, তখন অন্যান্য দেশের সামনেও একই পথ অনুসরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মুখে কোনো কোনো দেশ জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করে নিজেদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব দেশ তীব্র জ্বালানিসংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে, তারা কম মূল্যে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির লাভজনক সুযোগ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই মারপ্যাঁচ এবং পরাশক্তিগুলোর দ্বিমুখী নীতি বিশ্ব বাণিজ্যে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানিসংকট দূর করার দারুণ সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি এবং এলএনজির লাগামহীন দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন পরাশক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল ভেঙে সস্তায় জ্বালানি সংগ্রহ করছে, তখন বৈদেশিক বাণিজ্যে সুকৌশলী কূটনীতি প্রয়োগ করা যেতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য পশ্চিমা দেশগুলোকে যৌغوভাবে বুঝিয়ে সস্তা দামে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির পথ সুগম করা সম্ভব হলে দেশের কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে আসন্ন সেচ মৌসুমের কথা মাথায় রেখে সময়মতো সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের স্বস্তি পাবে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


