একটি সেঞ্চুরির রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি শতক। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) যেন নিজের আলাদা মঞ্চ তৈরি করেছেন মাহফিজুল ইসলাম রবিন। তিন ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয়বার তিন অঙ্ক ছুঁয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, এবারের আসরটা তার জন্য বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে চার মাঠের লড়াইয়ে ব্যাটসম্যানদের আধিপত্য ছিল না বললেই চলে। আজ বোলারদের দাপটে প্রথম দিনেই তিন ম্যাচে গড়িয়েছে দ্বিতীয় ইনিংস। এমন দিনে ব্যতিক্রমী এক গল্প লিখেছেন মাহফিজুল।
কক্সবাজারের একাডেমি মাঠে ঢাকার বিপক্ষে আজ দিনের একমাত্র সেঞ্চুরিটি এসেছে ময়মনসিংহের ওপেনার মাহফিজুলের ব্যাট থেকে। শুরুতে উইকেটে থিতু হতে সময় নিয়েছেন। ১৪৫ বলে পূর্ণ করেছেন ব্যক্তিগত অর্ধশতক। এরপর যেন খুলে যায় রানের গতি। পরের ৫০ রান করতে খেলেছেন মাত্র ৭১ বল।
দিনের শেষভাগে রিজান হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৮০ রানের জুটি গড়েন ২২ বছর বয়সী এই ওপেনার। ২৩৭ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ১১৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন তিনি। রিজান অপরাজিত ৪৩ রানে।
ময়মনসিংহের ২২৬ রানের মধ্যে মাহফিজুলের অবদান যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যায় অন্য ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকালেই। তার বাইরে কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। চার উইকেট হারিয়ে দিন শেষ করা দলটির লড়াইয়ের মূল ভরসা ছিলেন এই ওপেনার।
চলতি আসরে মাহফিজুলের ধারাবাহিকতা আরও বেশি চোখে পড়ার মতো। জাতীয় লিগ শুরুর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৪ ম্যাচের ২৬ ইনিংসে তার সেঞ্চুরি ছিল মাত্র একটি। এবার পাঁচ ইনিংসেই যোগ করেছেন আরও দুটি। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার তৃতীয় শতক। অন্য দুই ইনিংসেও পেরিয়েছেন ৬৫ রান। এবারের আসরে ধারাবাহিকভাবে বড় ইনিংস খেলছেন তিনি।
চট্টগ্রামে রংপুরের বিপক্ষে সিলেটের প্রথম ইনিংস থেমেছে মাত্র ১৭৯ রানে। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন অধিনায়ক জাকির হাসান। ১৩৫ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলেও শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরির সম্ভাবনা পূরণ করতে পারেননি তিনি।
ইনিংসের ৪৯তম ওভারে শরীরের বিভিন্ন পেশিতে টান অনুভব করেন জাকির। ক্র্যাম্পের কারণে আর ব্যাটিং চালিয়ে যেতে পারেননি। পরে ফিল্ডিংয়েও নামেননি। সিলেটের টিম ম্যানেজমেন্ট আশা করছে, বিশ্রাম নিয়ে দ্বিতীয় দিন মাঠে ফিরতে পারবেন অধিনায়ক।
জাকির ছাড়া স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের কেউই ২৫ রান করতে পারেননি। শেষ দিকে খালেদ আহমেদের ২৬ রানের ইনিংসে কোনোমতে ১৭৯ পর্যন্ত পৌঁছায় সিলেট। রংপুরের হয়ে মেহেদি হাসান ও স্বাধীন ইসলাম তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। দিনের শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে রংপুর এক উইকেটে ৩২ রান করেছে।
সিলেটের একাডেমি মাঠে চট্টগ্রামের বিপক্ষে খুলনার ইনিংস থেমেছে ২০১ রানে। দলের পক্ষে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ইমরানউজ্জামান। ২৩ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে নিজের অষ্টম অর্ধশতক তুলে নিয়ে ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন তিনি।
তরুণ ওপেনার আজিজুল হাকিমও ভালো শুরু করেছিলেন। ৪২ রান করে রানআউটের শিকার হওয়ায় ফিফটি পাওয়া হয়নি তাঁর। অন্যদিকে এনামুল হক, মোহাম্মদ মিঠুন ও আফিফ হোসেনদের ব্যাট থেকে প্রত্যাশিত রান আসেনি।
জবাবে দিনের শেষ সেশনে তিন উইকেট হারিয়ে ৭২ রান করেছে চট্টগ্রাম। আগের রাউন্ডে সেঞ্চুরি করা শাহাদাত হোসেন এবারও ভালো ছন্দে আছেন। ২০ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন তিনি।
প্রথম দিনের সবচেয়ে বেশি দলীয় সংগ্রহ বরিশালের হলেও ব্যাটিংয়ে বড় কোনো ইনিংস ছিল না কারও। রাজশাহীর বিপক্ষে ২২৯ রানে অলআউট হয়েছে দলটি। চার ব্যাটসম্যান ত্রিশের ঘরে পৌঁছালেও কেউ ফিফটির দেখা পাননি।
তরুণ ওপেনার জাওয়াদ আবরার ৪২ বলে ৪০ রান করে আক্রমণাত্মক সূচনা এনে দিয়েছিলেন। উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ করেন ৪১ রান। শেষ দিকে শহিদুল ইসলাম ও কামরুল ইসলামের ব্যাটে দুইশ পেরোয় বরিশালের সংগ্রহ। শহিদুল ৩২ এবং কামরুল ৩৬ রান করেন।
তবে বরিশালের ইনিংসের সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা রাজশাহীর বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম। মাত্র ১৫ রান খরচায় পাঁচ মেডেনসহ চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামাতে তার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ছিল কার্যকর। জবাবে রাজশাহী দিনের শেষ পর্যন্ত এক উইকেটে ২৪ রান করেছে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের সুবিধার জন্য এবারের তৃতীয় রাউন্ড এক দিন পিছিয়ে শুরু হয়েছে। তবে সিলেটের জাকের আলি ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ ছাড়া জাতীয় দলের সেই টেস্ট খেলা ক্রিকেটারদের খুব বেশি কাউকে এই রাউন্ডে দেখা যায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে বিশ্রাম নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম, নাঈম হাসান, ইবাদত হোসেন, তাইজুল ইসলাম ও সাদমান ইসলাম।
জাতীয় দলের নিয়মিতদের অনুপস্থিতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটের তরুণদের সামনে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগটা সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছেন মাহফিজুল। তিন ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি, অন্য দুই ইনিংসেও বড় রান-সব মিলিয়ে জাতীয় লিগের প্রথম ভাগে তিনিই সবচেয়ে আলোচিত ব্যাটসম্যান। এখন এই ধারাবাহিকতা কত দূর নিয়ে যেতে পারেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা!
