Published on
:
2 min read
এই সময়, তমলুক: শহরের বিভিন্ন জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন বন্ধ করে দূষণ রুখতে কয়েক বছর আগেই নির্দিষ্ট ঘাট তৈরি করেছিল পুরসভা। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে বারবার প্রচারও করা হয়েছিল, নির্ধারিত ঘাটেই বিসর্জন দিতে হবে প্রতিমা। কিন্তু বিজয়া দশমীতে সরকারি নির্দেশ না মেনেই শহরের একাধিক পুকুরে প্রতিমা বিসর্জনের অভিযোগ উঠল।
পুরসভা ও প্রশাসনের নির্ধারিত দুই ঘাটে ২৯টি প্রতিমা বিসর্জন হলেও বানপুকুর, রাজবাড়ির খাটপুকুর এবং ধারিন্দার শিবমন্দির সংলগ্ন পুকুর-সহ কয়েকটি জলাশয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তমলুক শহরে প্রতিমা বিসর্জনের জেরে জলাশয়ের দূষণ ঠেকাতে ষোলো ফুকার গেটের কাছে রূপনারায়ণ নদের সঙ্গে যুক্ত শঙ্করআড়া খালের পাশে স্থায়ী বিসর্জন ঘাট তৈরি করা হয়। পাশাপাশি, শঙ্করআড়া বাসপুলের কাছে ইয়ুথ স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগেও খালের পাশে তৈরি হয়েছে আর একটি স্থায়ী ঘাট। গত কয়েক বছর ধরেই পুলিশ ও পুরসভার তত্ত্বাবধানে ওই দুই ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শহরের অন্যান্য জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এ বার তমলুক শহরে ৬০টির মতো দুর্গাপুজো হয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশ প্রতিমার বিসর্জন হয় বুধবার, বিজয়া দশমীতে। প্রশাসনের তরফে আগাম জানানো হয়েছিল, ষোলো ফুকার গেট ও শঙ্করআড়া বাসপুলের নির্দিষ্ট ঘাটেই প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে। সেই মতো দুই ঘাটে নিরাপত্তা ও বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ষোলো ফুকার গেটের ঘাটে ১৭টি এবং শঙ্করআড়া বাসপুলের ঘাটে ১২টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে দুই ঘাটেই পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি পুরসভার কর্মী ও নুলিয়ারা মোতায়েন ছিলেন। শঙ্করআড়া ঘাটে স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরাও সহযোগিতা করেন। বিসর্জনের পরে প্রতিমার কাঠামো তুলে ফেলা থেকে পুজোর সাজসজ্জা ও ফুল আলাদা করে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলার ব্যবস্থাও করেছে পুরসভা।
তবে এত আয়োজনের পরেও শহরের কয়েকটি পুজো কমিটির বিরুদ্ধে নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনের অভিযোগ উঠেছে। যদিও একটি পুজো কমিটির দাবি, নির্দিষ্ট ঘাটে প্রতিমা নিয়ে যেতে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়। সেই খরচ সামাল দিতেই মণ্ডপের কাছে জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। তমলুক পুরসভার প্রশাসক অনিরুদ্ধ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য বলা হয়েছিল। তারপরেও বেশ কিছু পুজো কমিটি বিভিন্ন জলাশয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন করেছে শুনেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’
