সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের জৈন্তাপুর অংশে পৃথক দুটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মাসের এক শিশুসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং পর্যটকবাহী বাসের সঙ্গে একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া উভয় দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
নিহত তিন মাসের শিশু আয়াতের বাড়ি গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম মাখেরপাড়া গ্রামে, সে হাসানুজ্জামানের ছেলে। এ ছাড়া অপর দুই নিহত হলেন সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার কাওসার আহমেদের ছেলে আলিফ আকতার (১৫) এবং বাসচালক হাসান প্রামাণিক (৪৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলার বিরাইমারা সেতুর পাশে দ্রুতগতির দুটি প্রাইভেটকারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির ৪-৫ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শিশুসহ কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু আয়াতকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপর দুর্ঘটনাটি ঘটে একই দিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে জৈন্তাপুরের ফেরিঘাট এলাকায়। রাজবাড়ী থেকে ছয় দিনের সফরে সিলেটে আসা একদল পর্যটক বাসযোগে জাফলংয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে পর্যটকবাহী বাসটির সঙ্গে সিলেটগামী একটি পাথরবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গভীর কাদায় পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বাসের চালকসহ যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের দায়িত্বে নিয়োজিত উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় হাসপাতালে আরও অন্তত পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তামাবিল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
