দ্বিতীয় সন্তানের দিন গুনছেন বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আডবাণী। এই বিশেষ সময়েও তাঁর দীপ্তি এক ফোঁটাও কমেনি। কিয়ারার স্কিন কেয়ার রুটিন খুবই সাধারণ। ক্লিনজ়িং, টোনিং, ময়েশ্চারাইজ়িং, সিরাম এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন তিনি। তবে আরও একটি জিনিস রয়েছে, যেটা ছাড়া কিয়ারার এক মুহূর্তও চলে না। তা হলো বাথসল্ট।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা বলেন, ‘যখন আমি আমার প্রথম বাড়ি কিনি, আমি বলেছিলাম আমার বাথটব ও বাথসল্ট চা-ই চাই।’ বাথটবে গরম জল, সুন্দর শাওয়ার জেল আর বাথসল্ট— এটা কিয়ারার কাছে অত্যন্ত আরামদায়ক অভিজ্ঞতা। কিন্তু গর্ভাবস্থায় কি বাথসল্ট দিয়ে স্নান করা ভালো? আর এটা করলে কী উপকার মেলে?
বাথসল্ট ব্যবহার করলে কী কী উপকারিতা মেলে?
ঈষদুষ্ণ জলে বাথসল্ট বা ইপসম সল্ট মিশিয়ে স্নান করলে শরীরে স্বস্তি মেলে। সারাদিনের কাজকর্মের পরে নুন মেশানো জলে স্নান করলে শরীরে সাময়িক আরাম মেলে।
এতে পেশির জড়তা কমে যায়। পায়ের ব্যথা কমে এবং ক্লান্তি দূর হয়।
বাথসল্ট যদি স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন মৃত কোষ পরিষ্কার হয়ে যায় এবং ত্বক নরম দেখায়।
অনেক ক্ষেত্রে নুন-জলে স্নান করলে সোরিয়াসিস বা একজ়িমার ত্বকের সমস্যাও কিছুটা কমে।
গর্ভাবস্থায় কি বাথসল্টে স্নান করা যায়?
গর্ভাবস্থা বাথসল্ট মেশানো জলে স্নান করলে শরীরের পেশির স্ট্রেস কমে এবং মানসিক শান্তি মেলে।
গর্ভাবস্থায় কোমরে ব্যথা, পায়ে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। নুন-জলে স্নান করলে এগুলো কমতে পারে।
অনেক সময়ে নুন-জলে স্নান করলে গর্ভাবস্থায় হওয়া ত্বকের সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে।
কী ভাবে ব্যবহার করবেন?
সাধারণত সপ্তাহে এক থেকে দু’বার বাথসল্ট ব্যবহার করতে পারেন। বাথটবে ঈষদুষ্ণ জল ভরে নিন এবং তাতে কয়েক চামচ বাথসল্ট মেশানো জল মিশিয়ে দিন। এর মধ্যে ১০-১৫ মিনিট পিঠ হেলিয়ে শুয়ে থাকুন। তারপরে ওই নুন দিয়েই ত্বক হালকা স্ক্রাব করে স্নান করে নিন। ত্বক মুছে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে নেবেন।
কখন এড়িয়ে চলবেন বাথসল্ট?
ত্বক যদি স্পর্শকাতর হয়, ত্বকে কাটাছেঁড়া থাকে, তা হলে বাথসল্ট এড়িয়ে চলুন।
নুন জলে স্নান করার পরে যদি চুলকানির সমস্যা বাড়ে, তখনও বাথসল্ট এড়িয়ে যাওয়া ভালো।
FAQ
১. বাথসল্ট ব্যবহার করলে কী উপকার হয়?
বাথসল্ট মেশানো জলে স্নান করলে শরীরে সাময়িক আরাম মেলে। পেশির অস্বস্তি ও ক্লান্তিও কিছুটা কমতে পারে।
২. গর্ভাবস্থায় কি বাথসল্ট ব্যবহার করা যায়?
গর্ভাবস্থায় বাথসল্ট ব্যবহারের নিরাপত্তা নির্ভর করে উপাদান ও ব্যবহারের পদ্ধতির উপর। ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং অতিরিক্ত গরম জলে স্নান করবেন না।
৩. বাথসল্ট দিয়ে কতক্ষণ স্নান করা উচিত?
সাধারণত ১০–১৫ মিনিট ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করতে পারেন। তবে অস্বস্তি, মাথা ঘোরা বা ত্বকে জ্বালা হলে সঙ্গে সঙ্গে স্নান বন্ধ করুন।
৪. বাথসল্ট কি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে?
দানাদার বাথসল্ট স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত কোষ পরিষ্কার হতে পারে। তবে সংবেদনশীল বা ক্ষতযুক্ত ত্বকে এটি ঘষলে জ্বালা বাড়তে পারে।
৫. কখন বাথসল্ট ব্যবহার করা উচিত নয়?
ত্বকে কাটা-ছেঁড়া, জ্বালা বা চুলকানি থাকলে বাথসল্ট এড়িয়ে চলুন। ব্যবহারের পরে ত্বকের সমস্যা বাড়লেও তা ব্যবহার বন্ধ করুন।
