The Sangbad · সাধারণ
পর্যটনকেন্দ্রে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
১৯/১০/২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে একটি রিসোর্টে আগুন লেগে মারা গেছেন ১০ জন। কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হয়েছেন। এই মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানাই। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।এই অগ্নিকাণ্ড পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিসোর্টের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। কাঠের তৈরি রিসোর্ট হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ওপরের কক্ষের অতিথিরা সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেননি। কয়েকজনকে জীবন বাঁচাতে বেলকনি থেকে লাফ দিতে হয়েছে। এ ঘটনা প্রমাণ করে, শুধু আরামদায়ক আবাসন তৈরি করলেই চলে না। অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।পর্যটন এলাকায় হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে কাঠের তৈরি স্থাপনায় আগুনের ঝুঁকি বেশি। সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, বিকল্প নির্গমনপথ, জরুরি সতর্কসংকেত ও প্রশিক্ষিত কর্মী থাকা দরকার। রান্নাঘর ও বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তাও নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তদন্ত যেন শুধু প্রতিবেদন তৈরিতে সীমাবদ্ধ না থাকে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি এবং দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। সেখানে অগ্নিনিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি থাকলে তার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই শুধু দুর্ঘটনাকবলিত রিসোর্ট নয়, দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রের আবাসিক স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই করতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে। যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে আইন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষায় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗