সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত সাড়ে ছয় মাসে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতি করেননি বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। একই সময়ে দায়িত্ব পালন করা অন্য সংসদ সদস্যদেরও দুর্নীতি করেননি—এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া দেশের বন্ধ চিনিকল চালু করে চিনি উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেছেন এই সংসদ সদস্য।
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর থেকে নিজের বিবেক ও সজ্ঞানে বলতে পারেন, গত সাড়ে ছয় মাসে তিনি এক টাকারও সরকারি দুর্নীতি করেননি। তাঁর পাশে দায়িত্ব পালন করা অন্য সংসদ সদস্যরাও একই নিশ্চয়তা দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আমির হামজা আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকেও একই ধরনের বক্তব্য আসবে। অন্যদিকে, বাকি ২১২ জন সংসদ সদস্য দুর্নীতি করেননি—এমন নিশ্চয়তা দিতে পারলে তাঁরা রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের চিনি উৎপাদন ও আমদানিনির্ভরতা নিয়েও বক্তব্য দেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন চিনির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে উৎপাদন কম হওয়ায় দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করতে বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হয়।
আমির হামজা বলেন, দেশের বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করা গেলে স্থানীয়ভাবে চিনির উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং চিনির বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, নিজেদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে দেশের চিনির উৎপাদন বাড়ানো উচিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চিনিকলের অধীনে প্রায় ৭২০ বিঘা জমি পড়ে রয়েছে। এত সম্পদ থাকার পরও কেন বিদেশ থেকে চিনি আমদানি করতে হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এ সময় সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আমির হামজা বলেন, দেশে সার, বীজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের যথেষ্ট মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং দলীয়করণের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
