ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মারামারিতে জড়ানো দুই শিক্ষক হলেন- বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জেরেই বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও এমন বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে মারামারি হয়।
তিনি আরও বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে দূরত্ব রয়েছে। তবে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি। এর আগেও দুই থেকে তিনবার বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় ২০০৪ সালে। তাদের সংসারে একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় ১৪ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকেন। তাদের মধ্যে একাধিক বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে বলে জানা গেছে। দুজনই ২০১১ সালের দিকে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
বিজ্ঞাপন
সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষার্থী রয়েছে ৯০ জনের বেশি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে শিক্ষকদের এমন আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগের। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
হোসাইন সুলভ/এসজেডএইচ/এএসএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
