ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপের নেতৃত্বে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে বাধা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার দিল্লির হাইকোর্ট সিজেপির বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা আরোপে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমিত রাখতে পুলিশ আইন অনুযায়ী সব ধরনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এনডিএমসি) সন্ধ্যার দিকে বলেছে, প্রশাসনিক কারণে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য দিল্লির সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ থাকবে। যদিও সিজেপির বিক্ষোভকারীদের সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে গত ১০ অক্টোবর সিজেপির ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কনট প্লেসের কাছাকাছি যন্তর মন্তর রোডের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ শত শত বিক্ষোভকারীকে আটকের কয়েক দিন পর দিল্লি হাইকোর্ট ওই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইনডিয়াও এই একই দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।
আরও পড়ুন
চলতি সপ্তাহে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও সিজেপির আন্দোলন একসঙ্গে চলতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। ইনডিয়া জোট থেকে দূরে থাকা আম আদমি পার্টি (আপ) সিজেপির বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা সঙ্গে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
দিল্লি হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সাম্বরে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বৃহস্পতিবার ফুটপাতে পণ্য-সামগ্রীর লাইসেন্সপ্রাপ্ত এক বিক্রেতার করা আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বিক্রেতা বলেছিলেন, এই বিক্ষোভ ব্যবসায়ীদের অধিকারে প্রভাব ফেলবে এবং সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া আইন অনুযায়ী পুলিশকে এটি নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
আবেদনকারীর আইনজীবী বলেছেন, উৎসবের মৌসুমে মধ্য-দিল্লিতে যদি ব্যবসায়ীদের আরও একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন দোকানপাট বন্ধ রাখতে হয়, তাহলে তারা পথের ভিখারি হয়ে যাবেন। তিনি বলেন, কনট প্লেস সেন্ট্রাল পার্কের ঠিক মাঝখানে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে আমাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। এটি কোনো (বিক্ষোভের) জায়গা নয়। তারা ইতোমধ্যে দোকানপাট বন্ধ করা শুরু করে দিয়েছে। এটা দুর্গোসার-দশেরার সপ্তাহ। এই বিক্ষোভ বন্ধ করতে হবে।
কর্তৃপক্ষের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা। তিনি আদালতকে বলেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে একই সময়ে বিক্ষোভ করার অনুমতি পেয়েছে সিজেপি।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে জাতীয় রাজধানীর রাজপথ থেকে বিক্ষোভকারীদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের সাথে যোগ দেওয়া বিরোধী নেতারাও আটক হয়েছেন এবং এই ধরপাকড়ের সাথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করার বিষয়টি জড়িত।
তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার কারণে সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কারাগারে রয়েছেন। সিজেপির ১০ অক্টোবরের আহ্বানের পর ওই এলাকাটি বিক্ষোভের ভেন্যু হিসেবে তালিকাভুক্ত না করায় তাদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দীপকে বলেন, গত ১০-১৫ দিন ধরে দিল্লির ছাত্র সংগঠন ও যুবসমাজ রাজপথে রয়েছে এবং তাদের টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যখন বিরোধীরা তাদের সাথে যোগ দিল, তখন বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও পিনারাই বিজয়নের মতো সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ তাদেরও আটক করা হলো। আর এই সমস্ত কিছু কার জন্য? মাত্র একজন ব্যক্তির জন্য, তিনি হলেন জ্ঞানেশ কুমার।
আইসার নেতা নেহা বোরা বলেন, বিক্ষোভ কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকদের প্রেস কার্ড থাকা সত্ত্বেও মারধর করা হয়েছে, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি।
এসএস
