চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে হযরত গাউসুল আজম শাহ সুফি মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবা ভাণ্ডারীর (ক.) ১৬৪তম খোশরোজ শরিফ ঘিরে দেশ-বিদেশের ভক্ত-আশেকানদের সমাগম ঘটেছে। জিকির-আজকার, দোয়া, ছেমা, কাওয়ালি ও তবারক বিতরণের আয়োজনে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো দরবার এলাকা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে এ আয়োজনের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) শুরু হওয়া খোশরোজ শরিফ উপলক্ষে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে তৈরি হয়েছে আধ্যাত্মিক পরিবেশ। বাবা ভাণ্ডারীর (ক.) রওজা পাকসহ বিভিন্ন রওজা শরিফে ভক্ত-আশেকানেরা জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। অনেকে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছেন। পাশাপাশি দরবারের আশপাশে বসেছে মেলা। বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।
বুধবার রাতে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বাবা ভাণ্ডারীর (ক.) প্রপৌত্র, রাহবারে শরিয়ত ও তরীকত হযরত শাহ সুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.)।
আয়োজকেরা জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিশ্বের নানা দেশ থেকে ভক্ত-আশেকানেরা মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে এসেছেন। তাঁদের আগমন ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দরবার শরিফ বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে।
দরবারে আসা ভক্ত-আশেকানদের আপ্যায়নে বিভিন্ন মঞ্জিলে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন হাজারের বেশি চুলায় গত তিন দিন ধরে তবারক রান্না করা হচ্ছে। এতে চার হাজারেরও বেশি বাবুর্চি ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। রান্না শেষে ভক্তদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হবে।
খোশরোজ শরিফ উপলক্ষে আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন ও মঞ্জিলের উদ্যোগে খতমে কোরআন, খতমে গাউছিয়া শরিফ, পবিত্র রওজায় গিলাফ চড়ানো, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও তবারক বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক, যৌতুক ও বাল্যবিবাহবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ইতিমধ্যে কয়েক লাখ ভক্ত-আশেকান দরবার শরিফে উপস্থিত হয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন মঞ্জিলের প্রায় তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।
গাউছিয়া রহমানিয়া মইনীয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন ও আনজুমানের সভাপতি শাহ সুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী জানান, খোশরোজ শরিফের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পুরো দরবার শরিফকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার রাতে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাবা ভাণ্ডারীর (ক.) ১৬৪তম খোশরোজ শরিফের আনুষ্ঠানিকতা। এ আয়োজনে সমবেত ভক্ত-আশেকানেরা মহান আল্লাহর কাছে রহমত, বরকত, শান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করবেন।
