আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি নাকি বিশ্বজুড়ে আটটা যুদ্ধ থামিয়েছেন। তারপরেও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ একাধিকবার প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এবার তাঁর নিশানায় উঠে এল পুলিৎজার পুরস্কার। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পাশাপাশি পুলিৎজার পুরস্কারও তাঁর প্রাপ্য ছিল।
ট্রাম্পের বক্তব্য, রাশিয়া সংক্রান্ত তদন্তের খবর প্রকাশ করে যে সাংবাদিকরা পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন, তাঁদের প্রতিবেদন সঠিক ছিল না। ওই সাংবাদিকদের পুলিৎজার পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নোবেল পুরস্কার পাইনি। পুলিৎজার পুরস্কারও পাইনি। কিন্তু লেখালেখির জন্য আমার পুলিৎজার পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।’
তবে ঠিক কোন লেখা বা বইয়ের জন্য তিনি এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য, তা জানাতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, পুলিৎজার পুরস্কার মূলত মার্কিন সাংবাদিকতা, সাহিত্য, নাটক এবং সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়।
https://x.com/Acyn/status/2113061914498720131
প্রতি বছর এই সম্মান প্রদান করা হয়। রাশিয়া সংক্রান্ত তদন্তের খবর প্রকাশের জন্য যে সাংবাদিকরা এই পুরস্কার পেয়েছিলেন, তাঁদের কাজের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তাঁরা রাশিয়া নিয়ে তাঁদের ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন।
তাঁর কথায়, ‘যাঁরা ওই পুরস্কার পেয়েছিলেন, তাঁদের সেটা পাওয়া উচিত ছিল না। রাশিয়া নিয়ে তাঁদের নির্ভুল ও অসাধারণ লেখার জন্য পুলিৎজার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের তথ্য ভুল ছিল। প্রত্যেকেই ভুল করেছিলেন।’
এর পরেই ফের নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একাধিক যুদ্ধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে এই পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি আগেও।
দক্ষিণ ক্যারোলিনার ওই নির্বাচনী জনসভায় নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন কাজের কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনে তাঁর প্রশাসনের পরিকল্পনার প্রসঙ্গও আনেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে নিয়মিত নিজের মতামত প্রকাশ করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ব্যবসা, কৌশল এবং রাজনীতি নিয়ে তিনি প্রায় ২০টি বই লিখেছেন বলেও জানা গিয়েছে।
তবে একাধিক লেখকদের সাহায্যে সেই বই শেষ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’ ট্রাম্পের নামে প্রকাশিত প্রথম বই হিসেবে পরিচিত।
বইটি লেখার ক্ষেত্রে টনি শোয়ার্টজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি পেশাদার লেখক হিসেবে বইটির সহ-লেখক বা ঘোস্টরাইটার ছিলেন। পরবর্তী সময়েও ট্রাম্পের নামে প্রকাশিত একাধিক বইয়ে সহ-লেখক ও ঘোস্টরাইটাররা কাজ করেছেন।
ব্যক্তিগত অর্থনীতি, রাজনৈতিক নীতি এবং আত্মজীবনীমূলক বই রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামে। যদিও এর মধ্যে কোন বইয়ের জন্য ট্রাম্পের পুলিৎজার পাওয়া উচিত তা জানাতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=3QkNYyh3xTaQ6cYQ
কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে পুলিৎজার, দুই সম্মান না পাওয়া নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
