Published on
:
2 min read
হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলায় রণক্ষেত্র সৌদি আরব। একাধিক বিমানবন্দরে উড়ান স্থগিত করা হয়েছে। এ বার তার প্রভাব পড়ল বাংলাদেশে। সোমবার সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে প্রায় ৫১টি ফ্লাইট বাতিল করল বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৫৪১৮ জন যাত্রী। তাঁদের অধিকাংশই সৌদি আরবে কাজ করেন বলে জানা গিয়েছে।
বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সৌদি আরবে প্রায় ৩০ লক্ষ বাংলাদেশি কাজ করেন। অনেকেই ছুটিতে দেশে ফিরেছিলেন। তার মধ্যেই হুথিদের আক্রমণ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সৌদি। এখন আর কাজের জায়গায় ফিরতে পারছেন না তাঁরা। ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে ঢাকা বিমানবন্দরে কার্যত হাহাকার করে উঠলেন তাঁদের অনেকেই।
মূলত সৌদির বিমানবন্দরগুলিকে নিশানা করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আছড়ে পড়েছে একের পর এক মিসাইল। আগুন ধরে গিয়েছে টার্মিনালে। এমন পরিস্থিতিতে কিং খালিদে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমান চলাচল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রিয়াধ কর্তৃপক্ষ। একই পরিস্থিতি দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরেরও। সেখান থেকে একাধিক বিমান বাতিলের খবর মিলেছ। একাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে জেদ্দার কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও।
তার আঁচ এসে পড়েছে বাংলাদেশে। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে ঢাকা বিমানবন্দরে। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহণ কর্তৃপক্ষের তরফে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শনিবার রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৫১টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ১২টি এবং ট্রানজিট রুটের ৩৯টি ফ্লাইট রয়েছে।
ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াধগামী সব ফ্লাইট হয় অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, শনিবার ও রবিবার পর পর দু’দিন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বড় ধরনের হামলার পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সৌদি আরবের দাম্মামে যাওয়ার কথা ছিল আবুল হোসেনের। টাইলস মিস্ত্রির কাজ করেন তিনি। তিন মাসের ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। উড়ান ধরতে এ দিন নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে সকাল ১০টা নাগাদ ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছন। কিন্তু সেখানে এসে জানতে পারেন, তাঁর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। প্রথম আলো-কে আবুল বলেন, ‘ছুটি শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন যেতে না পারলে কাজটা আর থাকবে না।’
একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন মোসলেম তালুকদারও। সকাল ১০টা থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। পরে জানতে পারেন, তাঁর ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে। রিয়াধের একটি দোকানে কাজ করেন তিনি। এখন যে ভাবে হোক একটা বিকল্প ফ্লাইট খুঁজছেন মোসলেম। সেটা না পেলে কী হবে, ভাবতেও পারছেন না তিনি।
