Published on
:
2 min read
চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুতে স্তম্ভিত গোটা রাজ্য। দুর্গাপুজোর আনন্দ মুহূর্তে বদলে গিয়েছে বিষাদে। আহত প্রায় ২৫ জন। তাঁদের অধিকাংশকেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পরে পুজো কমিটি থেকে শুরু করে পুলিশের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ তুলছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ ও চোরবাগান সর্বজনীন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সন্ধ্যায় ঝেঁপে বৃষ্টি শুরু হয়। রাস্তায় ছিল তীব্র যানজট। সেই সময়ে আচমকাই চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের ভিতরে তীব্র হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে অনেকেই মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়েই পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
হুগলির কোন্নগর থেকে মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন অনিন্দ্যকুমার দাস। ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান তিনি। জখম হন তাঁর মেয়ে ও নাতনিও। তাঁদের কলকাতা মেডিক্যালে চিকিৎসা চলছে। সেখানে দাঁড়িয়েই সংবাদ সংস্থা IANS-কে তিনি বলেন, ‘প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মণ্ডপে ঢুকি। ঢোকা আর বেরোনোর রাস্তা খুব সরু ছিল। কোনও আলোও ছিল না।’
বৃষ্টি শুরু হতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় বলে দাবি তাঁর। অনিন্দ্যর কথায়, ‘বেরোনোর রাস্তায় প্রথমে দু’-একজন পড়ে গিয়েছিলেন। পিছন থেকে ঠেলা দিতেই হুড়মুড়িয়ে সব পড়তে শুরু করে। আমিও পড়ে যাই। মেয়ে আর নাতনিও চাপা পড়ে যায়।’ ওই অবস্থায় কোনও রকমে ওঠেন তিনি। কিন্তু মেয়ে আর নাতনিকে দেখতে না পেয়ে বুক কেঁপে উঠেছিল তাঁর। অনিন্দ্যর কথায়, ‘খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। মেয়ে আর নাতনির উপরে অনেকে পড়ে গিয়েছিল।’
আশপাশের লোকজনকে তখন টেনে তুলছেন তিনি। একই সঙ্গে মেয়ে আর নাতনিকেও খুঁজছিলেন। অনিন্দ্যর কথায়, ‘নাতনির মাত্র সাত বছর বয়স। সবাইকে জিজ্ঞাসা করছিলাম, কেউ দেখেছে কি না। পরে জানতে পারি মেয়ে আর নাতনিকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছে। তার পরেই ছুটে আসি আমি।’ ঘটনার পরে প্রায় আধঘণ্টা কোনও পুলিশ, ভলান্টিয়ার ছিল না বলে অভিযোগ তাঁর। এমনকী পুজো কর্তৃপক্ষও কোনও ঘোষণা করেননি বলে দাবি করেছেন অনিন্দ্য।
অনিন্দ্যর সুরেই বৃষ্টির দিকে আঙুল তুলেছেন আর এক দর্শনার্থী। তাঁর দাবি, ‘বৃষ্টি হচ্ছিল। সেই সময়েই হুড়োহুড়ির জেরেই পদপিষ্টের মতো ঘটনা ঘটে।’ তবে হুড়োহুড়ি কেন হলো, সেই নিয়ে কিছু জানেন না ওই ব্যক্তি। ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখে বন্ধুদের সঙ্গে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো দেখতে এসেছিলেন এক যুবক। তিনি বলেন, ‘ইনস্টাগ্রামে দেখেছিলাম, খুব ভিড় হচ্ছে। আমরাও দেখতে আসি। কিন্তু এসে দেখি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ অতিরিক্ত ভিড়ের জন্যই দুর্ঘটনা বলে অনুমান তাঁর।
ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাতেই চোরবাগান সর্বজনীনে পৌঁছয় ফরেন্সিক টিমও। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুজো উদ্যোক্তা, ভলান্টিয়ার-সহ ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারপিছু একজনকে চাকরি এবং ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
