নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে কোনো উন্নয়নকাজ করবেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি। তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বরগুনার বামনা উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বামনা আসমাতুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দলীয় মনোনীত প্রার্থী জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে কোনো উন্নয়নকাজ করবেন না। অন্য কেউ নির্বাচিত হলে তাঁর কাছে গিয়ে উন্নয়নকাজ চেয়েও লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চিফ হুইপের এ বক্তব্যের বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজসহ আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেওয়া আরও দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তবে ওই দুজন তাঁদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের বক্তব্য, দলীয় মনোনয়নের বাইরে কেউ নির্বাচিত হলে উন্নয়নকাজ না করার ঘোষণা নির্বাচনের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের ভাষ্য, “আগেই বলে দিলেই হয়—আমরা কেউ নির্বাচন করব না। আমরা নিজেদের স্বার্থে নির্বাচনে আসি না; এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।”
এ বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে অন্য কেউ নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উন্নয়নকাজ ও নাগরিক সেবা কতটা সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতে, নির্বাচনে যে দলের প্রার্থীই জয়ী হোন না কেন, উন্নয়নকাজের সুফল পাওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট এলাকার সব মানুষের।
এদিকে একই কর্মিসভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন চিফ হুইপ। তাঁদের প্রতি কেউ বিদ্বেষমূলক আচরণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দুর্গাপূজায় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
