সীমান্তে অস্থিরতা-অশান্তির দায় কার্যত চিনের ঘাড়েই চাপিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
Published on
:
2 min read
অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সেনার সংঘাত নিয়ে ইন্দো-তিব্বতীয় সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি)-এর ডিজি শত্রুজিৎ সিং কাপুরের মন্তব্যে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মুখ খুলল কেন্দ্র। সীমান্তে অস্থিরতা-অশান্তির দায় কার্যত চিনের ঘাড়েই চাপিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকই যা বলার বলবে জানিয়ে এস জয়শঙ্করের মন্ত্রক বলেছে, সীমান্তে লাল ফৌজ টহলদারির ধরন বদলালেই মূলত অশান্তি তৈরি হয়।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটা আমরা আগেও দেখেছি, চিনা বাহিনী যখন তাদের নির্ধারিত টহলদারির ধরন থেকে সরে আসে, তখনই ভারত-চিন সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।’ তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যাবতীয় বিবাদ মেটানোর চেষ্টা দু’পক্ষই চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় কোনও রকম ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল পদক্ষেপ এড়াতে এবং আগের সমস্যা সমাধানের জন্য উভয় পক্ষই কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলকে কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এই বিষয়টিও জোর দিয়ে বলতে চাই যে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।’
প্রসঙ্গত, আইটিবিপি জওয়ানদের সম্মান জানাতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল শত্রুজিৎ জানান, সম্প্রতি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) বরাবর বেশ কয়েকটি জায়গায় সংঘাতে জড়িয়েছে ভারতীয় সেনা। কিন্তু এখনও সেই সীমান্ত বিবাদের কোনও সমাধান হয়নি। শত্রুজিৎ অবশ্য আলাদা করে চিনের সেনার নাম করেননি। আইটিবিপি প্রধান বলেন, ‘গত কয়েক দিনে অরুণাচলের বেশ কয়েকটি জায়গায় মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং তা এখনও চলছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, সংঘাতের সময়ে বাহিনীর শৌর্য কম্যান্ডোরা অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন।
অরুণাচলে ভারত-চিনের মধ্যে সংঘাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব কংগ্রেস। তা নিয়ে বেশ কয়েক বার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধীও। তা কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে কখনওই প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি। কংগ্রেসের অভিযোগকেও তারা উড়িয়ে দিয়েছে। সেই বিতর্কের আবহে আইটিবিপি-র প্রধানের এই মন্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা শুরু হয়েছে। কারণ কিছু দিন আগেই ব্রিকস সম্মেলনে ভারতে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারত এবং চিন সেনার সংঘর্ষের পরে এটিই তাঁর প্রথম ভারত সফর ছিল। সরকারি সূত্রে খবর, নয়াদিল্লিতে মোদীর সঙ্গে জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়। সেখানে আলোচনাও হয় সীমান্ত বিবাদ নিয়ে। উত্তাপ যে দু’পক্ষই কমানোর চেষ্টা করছে, সেই বার্তাও মেলে। সেই আবহে শত্রুজিতের মন্তব্যে ভিন্ন পরিস্থিতির আভাস পাওয়া গেল বলে মনে করছেন অনেকে।
এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। দলের সাংসদ জয়রাম রমেশের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সংঘাতের তথ্য গোপন করছেন। পাশাপাশি, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে হওয়া কোর কম্যান্ডার স্তরের বৈঠকের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রমেশ। এ বার বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিল কেন্দ্র।
