ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ বাজারে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. শামছুল হকের ক্রয়কৃত জমি দখল করে দোকান ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আবু হানিফা নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শামছুল হক গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আবু হানিফা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। তবে বিএনপি নেতা আবু হানিফা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শামছুল হক ১৯৯৫ সালে মাইজবাগ বাজারে সাফ কাওলা মূলে গিয়াস উদ্দিন, মন্নাছ ও আইযুদ্দিনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ভোগদখলে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আবু হানিফা জায়গা দখলের চেষ্টা চালান। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিবের মাধ্যমে সালিস দরবার হলেও মীমাংসা হয়নি। পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগী শামছুল হক ঈশ্বরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন।
মামলা চলাকালে গত সাত মাস আগে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তী সময়ে আবু হানিফার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। অন্যদিকে শামছুল হকের আবেদনের ভিত্তিতে ঈশ্বরগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক এ কে জেড আলম শিমুল স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। অভিযোগ উঠেছে, স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে বিএনপি নেতা আবু হানিফা জোরপূর্বক জায়গা দখলে নিয়ে সেখানে দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও কোনো ফয়সালা হয়নি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে মাইজবাগ বাজারে দক্ষিণ পাশে নির্মাণাধীন দোকানের সামনে বিশাল বালুর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তার পশ্চিম পাশে ইট দিয়ে ঘর নির্মাণ করছেন মিস্ত্রিরা। তার পাশে বিএনপি নেতা আবু হানিফা ও তার লোকজন পাহারা দিচ্ছেন। প্রায় ১০ শতাংশ জায়গাজুড়ে দোকানপাট তৈরি করা হচ্ছে। সংবাদকর্মী আসছে শুনে সামনে এসে নিজের জায়গা সম্পর্কে অবহিত করেন তিনি।
ভুক্তভোগী শামছুল হক বলেন, ‘আমি ৩২ বছর আগে জায়গাটি ক্রয় করেছি। সেই থেকেই ভোগদখলে ছিলাম। ৫ আগস্টের পর আবু হানিফা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার প্রায় ১০ শতাংশ জায়গা দখলে নিয়ে প্রকাশ্যে দোকানপাট নির্মাণ করছে। প্রতিবাদ করলেই আমাকে হুমকি দেয়। আমি আমার সম্পত্তি ফেরত চাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে গিয়েও বিচার পাইনি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবু হানিফা বলেন, বিআরএস মূলে আমার নিজস্ব জায়গায় দোকান নির্মাণ করছি। কারও সম্পত্তি দখল করিনি এবং কাউকে হুমকিও দিইনি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
