আজকাল ওয়েবডেস্ক: একই সপ্তাহে তিনবার হামলা সৌদির রিয়াধ বিমানবন্দরে। গত পরশু রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। মৃত ১২ জন। আহত ৩০০-রও বেশি মানুষ। আহতদের মধ্যে ছিলেন এক ভারতীয় নাগরিকও। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের নাম মহম্মদ ইউসুফ আলি (৩৮)। তিনি তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদের বাসিন্দা ছিলেন। ফলে হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩-এ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইউসুফের মৃত্যুর ঘটনায় এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি জানিয়েছেন, ইউসুফ আলি তাঁর পরিবারের সঙ্গে উমরাহ পালনের জন্য মদিনা যাচ্ছিলেন। রিয়াধ বিমানবন্দরে আকস্মিক হামলায় তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য়ও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। বর্তমানে ইউসুফের এক ছেলের হাঁটুতে অস্ত্রোপচার চলছে। অপর এক ছেলের পায়ের তিনটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়েছে। মাথায় চোট পেয়েছেন তাঁর কাকিমাও। তবে আপাতত বিপদমুক্ত বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে সুরক্ষিত রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, রিয়াধের 'কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'-এর অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ৩ ও ৪ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এই হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে। হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশ, প্যালেস্টাইন, আমেরিকা, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া এবং সুদানসহ একাধিক দেশের নাগরিক রয়েছেন।
সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস থেকে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সমাজমাধ্যম এক্স-এর এক বার্তায় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, আলির পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ইউসুফের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, বেসামরিক নাগরিক এবং বিমানবন্দরে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। নয়া দিল্লির তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "নাগরিক পরিকাঠামোর ওপর এই ধরনের হামলা নিন্দনীয়। আমরা রিয়াধ বিমানবন্দরে হওয়া এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"
