নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার সময় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে ঘটে এ দুর্ঘটনা। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন- রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আনোয়ার হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার শিশু আহুদিয়া (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সামাদ (৭০), জুয়েল (৪০), জহুর উদ্দিন, শামলাল মোল্লা (৪৫), কাশেম (৩৫), জাহান উদ্দিন মোল্লা। এ ছাড়া দুর্ঘটনাকবলিত বাসের চালক মো. সোহেল রানা। তিনি রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কুড়িগ্রাম থেকে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়।
বাস থাকা যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, বাসটি কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছিল। বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। তার অভিযোগ, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল এবং চালক মাঝেমধ্যে জোরে ব্রেক করছিলেন।
বনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শামীম হোসেন জানান, বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই ৯ জনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে আহতদের উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর সেখানেই মারা যান আরও পাঁচজন।
