Published on
:
2 min read
কোনও ঝগড়া নেই, নেই কোনও বিশ্বাসঘাতকতা বা সংসারে আর্থিক সমস্যা। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় হাসিমুখের ছবি কিংবা ডিনার টেবিলে পাশাপাশি বসে থাকা—বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে একেবারে নিখুঁত এক দাম্পত্য! অথচ ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে সঙ্গীর পাশে থেকেও অদ্ভুত এক শূন্যতা কাজ করে অনেকের মনে। কোনও কারণ ছাড়াই মনে হয়, ‘বড্ড একা..!’ সংসারে কোনও অশান্তি না থাকা মানেই যে সম্পর্কটি আসলে সুখের, তেমনটা ভেবে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। এই ধরনের সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘Emotional Disconnection’।
কেন তৈরি হয় এই দূরত্ব?
মনোবিদরা বলছেন, সম্পর্কের এই দূরত্ব কিন্তু রাতারাতি তৈরি হয় না। বরং ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি শুরু হয়, যা দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে দম্পতিরা প্রায়ই এড়িয়ে যান।
সারাদিনের গল্প, ভয়, স্বপ্ন বা অনুভূতির আদান-প্রদান বন্ধ হয়ে যখন কথা কেবল ঘরের কাজ, বাজারের ফর্দ, বাচ্চার পড়াশোনা বা অফিসের সময়সূচীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
সঙ্গী হয়তো আপনার মুখের কথাগুলো শুনছেন, কিন্তু সেই কথার পিছনের আসল আবেগ বা অনুভূতিটা উপলব্ধি করছেন না।
সম্পর্কে অশান্তি এড়াতে গিয়ে মনের জমে থাকা কথা না বলা। আপাতদৃষ্টিতে এটি ঝগড়াহীন সম্পর্কের লক্ষণ মনে হলেও, ভিতরে ভিতরে অনুভূতির বড় দেওয়াল তুলে দেয়।
একে অপরকে সময় দেওয়া কমিয়ে দেওয়া এবং ধরে নেওয়া যে পার্টনার তো পাশেই আছেন, নতুন করে আর যত্ন নেওয়ার কী প্রয়োজন!
একাকীত্ব কাটানোর সহজ উপায়
স্ক্রিন-ফ্রি কোয়ালিটি টাইম: প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে রেখে দুজন দুজনার মুখোমুখি বসুন।
শুধু শুনুন: সঙ্গী যখন কিছু বলছেন, তখন সঙ্গে সঙ্গে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা না করে কেবল মনোযোগ দিয়ে তাঁর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: সঙ্গীর কাজের প্রশংসা করুন। ধন্যবাদ দেওয়া কিংবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে সম্পর্কে দারুণ ম্যাজিক তৈরি করা সম্ভব।
খোলামেলা আলোচনা: বয়স ও সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়। নিজের সঙ্গীকে নতুন করে জানার আগ্রহ বা কৌতূহল বাঁচিয়ে রাখুন।
কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নিন: যদি মনে হয় প্রতিটি আলোচনাই শেষ পর্যন্ত নীরবতা বা অভিমানের দিকে গড়ায়, তবে অভিজ্ঞ কোনও ম্যারেজ কাউন্সেলরের বা থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।