ভারতীয় পরিবারগুলোতে সিভিল সার্ভিস বা ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস কর্মকর্তা হওয়া মানেই জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য। তবে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কমিশনার এবং আলোচিত আইএএস কর্মকর্তা তুকারাম মুণ্ডে জানিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার কথা। দীর্ঘ ২১ বছরের চাকরিজীবনে প্রায় ২৫ বার বদলি হওয়া এই কর্মকর্তা বলছেন, তিনি কখনই চান না তাঁর সন্তানরা এই পেশায় আসুক।
সম্প্রতি ‘গ্লোবাল মারাঠা বিজনেস এক্সপো’-তে দেওয়া তাঁর এই মন্তব্য ভারতীয় প্রশাসনিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর ‘ইন্ডিয়ান মাস্টারমাইন্ডস’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
কেন সন্তানদের আইএএস বানাতে চান না তুকারাম মুণ্ডে
২০০৫ ব্যাচের এই আইএএস কর্মকর্তা তাঁর কর্মজীবনে কঠোর নীতিপরায়ণতা এবং বারবার বদলির জন্য পরিচিত। পেশাগত জীবনে এই ঘনঘন বদলির প্রভাব ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা তুলে ধরেছেন তিনি।
তুকারাম মুণ্ডে বলেন, বদলির খেসারত দিতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে। তাঁর ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার আগেই অন্তত ছয়বার স্কুল বদলাতে হয়েছে। বারবার নতুন শহর, নতুন স্কুল এবং ভিন্ন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে তাঁর সন্তানদের পড়াশোনা ও সামাজিকতায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
এ ছাড়া সিভিল সার্ভিসের ক্ষমতার মোহের পেছনে লুকিয়ে থাকে পরিবার ও জীবনসঙ্গীর আত্মত্যাগ। বারবার ঘর বদলানো এবং নতুন রুটিন তৈরি করার এই ধকল তাঁর পুরো পরিবারকে পোহাতে হয়েছে।
বিকল্প হিসেবে উদ্যোক্তা বা জননেতা হওয়ার পরামর্শ
তবে এর মানে এই নয় যে, তুকারাম মুণ্ডে তাঁর সন্তানদের জনসেবা থেকে দূরে থাকতে বলছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশের তরুণদের শক্তি ও মেধা কেবল গতানুগতিক সরকারি কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং স্বাধীনভাবে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি তাঁর সন্তানদের ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়া অথবা জননেতা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, সিভিল সার্ভিসের গণ্ডির বাইরে গিয়ে উদ্যোক্তা বা জননেতা হিসেবে স্বাধীনভাবে সমাজকে আরও বেশি সেবা দেওয়া সম্ভব।
কে এই তুকারাম মুণ্ডে
মহারাষ্ট্র ক্যাডারের ২০০৫ ব্যাচের এই আইএএস কর্মকর্তা তাঁর সততা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং আপসহীন মনোভাবের জন্য সর্বমহলে পরিচিত। চলতি বছরের মে মাসে তিনি মহারাষ্ট্রের এফডিএ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান তাঁকে জনগণের কাছে প্রশংসিত করে। তবে তাঁর ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২৫ বার বদলির রেকর্ড স্মরণ করিয়ে দেয়—ক্ষমতা ও মর্যাদার এই পেশার পেছনে ব্যক্তিগত মূল্য কতটা চড়া হতে পারে।
