বিনিয়োগকারীদের আশা ছিল হাসিনার শাসন শেষে স্বস্তি মিলবে পুঁজিবাজারে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই আশা পূরণ করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের পরও বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ফিকে হতে বসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নেয়ার কথা ভাবছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।
এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি এএনএম আতাউল্লাহ নাঈম জানান, ‘৫ আগস্টের আগে, ৫ আগস্টের পরে কিংবা বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সবার মধ্যে যে আশ্বাস তৈরি হয়েছিল, পুঁজিবাজারে আমরা সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। আমি তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগ করেছি। সেই বিনিয়োগের সুফল পেতে হয়তো আমার আরও ১০ বছর লেগে যেতে পারে। তারপরও আমি আশা রাখতে পারি। কিন্তু আমাদের পুঁজিবাজার অনেকটাই কারসাজিনির্ভর হওয়ায় এখানে আস্থারও সংকট রয়েছে।’
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সূচকের গতি বেড়ে ৬ হাজারের কাছাকাছি গেলেও এখন নিম্নমুখী। লেনদেন নেমে এসেছে দেড় হাজার কোটি টাকা থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে। এমন পরিস্থিতিতে ছোট বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখতে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পরামর্শ বাজারসংশ্লিষ্টদের।
তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী বলেন, ‘দেশের বাণিজ্যিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। মূল্যস্ফীতিও বাড়তি। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের ছোট ছোট সঞ্চয় নিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে আসেন। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য সত্যিই একটি দুশ্চিন্তার বিষয়।’
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে তারল্যসংকট বাড়ছে। বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
এদিকে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘বাজারে কতটা অর্থ প্রবাহিত হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজারের সুদের হার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক বা নিয়ামক। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতির ওপর নির্ভর করছে। আশা করছি, এবার সুদের হার কমানো না হলেও সামনে হয়তো কমানো হবে। তখন এই শুষ্ক অর্থনীতির মধ্যেও পুঁজিবাজার কিছুটা হলেও ভালো করবে।’
কাগজে-কলমে নানামুখী সংস্কারের কথা বলা হলেও, সুশাসন ও আস্থার সংকট কাটিয়ে পুঁজিবাজার কবে ঘুরে দাঁড়াবে, সেই প্রতীক্ষায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
