অনলাইন ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন জেলায় এক দিনের ব্যবধানে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও ফরিদপুরে ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মা-ছেলে, শিক্ষার্থী ও কিশোররা।
সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে যশোর-খুলনা মহাসড়কে। সদর উপজেলার চাউলিয়া তেলপাম্প এলাকায় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইক ও ভ্যানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক মা ও তার চার বছরের শিশু সন্তান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে এবং ঘাতক কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে কুষ্টিয়ার খোকসায় বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। সংঘর্ষের পর বাসটি রাস্তার পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২১ জন। নিহতদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীও রয়েছে।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন তরুণ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাসড়ক পার হওয়ার সময় ট্রাকটি মোটরসাইকেলটিকে সজোরে আঘাত করে।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। একই দিনে ফরিদপুরেও পৃথক দুর্ঘটনায় একজন প্রাণ হারান এবং আহত হন আরও চারজন।
এক দিনের এসব দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বেপরোয়া গতি, দুর্বল তদারকি এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণেই প্রাণহানি বাড়ছে।
