সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছেন উৎসুক মানুষ। কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ অপেক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য। জেএম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন হেঁটে বেরিয়ে রহমতগঞ্জ হয়ে মোমিন রোডের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। প্রধানমন্ত্রীও সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি হেঁটে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় তাকে দেখতে সড়কের পাশে অপেক্ষায় থাকা মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখতে পেয়ে অনেকে মুঠোফোনে তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। তাকে হাত নাড়তে দেখে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনও সাড়া দেন। প্রধানমন্ত্রীর চলার পথের দুই পাশে মানুষের উপস্থিতি এবং তাকে ঘিরে কৌতূহল পুরো এলাকায় বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। দুর্গোৎসবের আনন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি যুক্ত হওয়ায় সেখানে তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে রংপুর ও রাজশাহীতে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাতে চট্টগ্রাম নগরের জে এম সেন হলে আসেন তিনি। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন। সভায় তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান— সবার। রাষ্ট্র সবার জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক কারণে তাকে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় যা-ই হোক, দেশের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার সমান।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীসহ সরকারের প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে রাতে জে এম সেন হলে তার আগমন এবং অনুষ্ঠান শেষে হেঁটে বেরিয়ে জনতার উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানানোর দৃশ্য নগরবাসীর মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করে।
এসএএস
