সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১৩৫টি ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করতে হয়েছে। ফলে এসব ফ্লাইটের ২০ হাজার ৬৭২ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাতিল বা স্থগিত হওয়া এসব ফ্লাইটের মধ্যে ৬২টি সরাসরি এবং ৭৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ৩৭৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে যায়। দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গতকাল ফের বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম রুটের ফ্লাইট চলাচল। আগামী ২৫ অক্টোবর দাম্মামগামী ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এতে ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবরের জন্য এ রুটের নির্ধারিত সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ বিরতির পর চালু হওয়ার পর আবারও এ রুটের ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণায় যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি, কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়া কর্মী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের পরিকল্পনা করা যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।
দাম্মাম সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল। সেখানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় ঢাকা-দাম্মাম রুটটি প্রবাসী যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকলে যাত্রীদের বিকল্প রুটে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হতে পারে। এতে ভ্রমণের সময় ও ব্যয় বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি ও রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২৮টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি ও ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট রয়েছে।
