বিশ্বজুড়ে সাইবার ঝুঁকি, চরম হুমকিতে বাংলাদেশের তথ্যভান্ডার
বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট তৈরির অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ায় সাইবার হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডিজিটাল ভূমি সেবাসহ দেশের অন্তত সাতটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট .....
বাংলাদেশ
জার্নাল ডেস্কবিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট তৈরির অন্যতম জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ায় সাইবার হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডিজিটাল ভূমি সেবাসহ দেশের অন্তত সাতটি ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্টের জারি করা জরুরি সতর্কবার্তার পর তথ্যভান্ডার সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলো এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
গত সপ্তাহে ক্যালিফ ও উইজ নামের দুটি মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে পিএইচপির এক দশকের পুরোনো এই গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করেন। এরপর ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) জরুরি সতর্কতা জারি করে। এর পরপরই হ্যাকিংয়ের আশঙ্কায় উইকিমিডিয়া, যুক্তরাজ্য সরকার, ফ্রান্সের অরেঞ্জ, ফিনল্যান্ড সরকারসহ বিশ্বজুড়ে শত শত ওয়েবসাইট তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
এর মধ্যেই এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (এসবিআই) ডেটাবেজ থেকে গ্রাহকদের তথ্য ফাঁসের দাবি করেছে ‘সিরিউসিম’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী, যা পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছে।
বাংলাদেশে এই সাইবার সতর্কতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভূমি সেবাপ্রত্যাশীরা। দেশে প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ মানুষ অনলাইনে জমির নামজারি বা মিউটেশন সেবা নেন। কিন্তু শনিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে ই-নামজারির সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ রয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় এটিকে 'সাময়িক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ' বললেও ওয়েবসাইটে সার্টের সতর্কবার্তার কারণে আপডেট চলার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি এড়াতে গত বৃহস্পতিবার থেকে নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেখাদেখি অগ্রণী, জনতা, আইএফআইসি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী, এসবিএসি ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকও তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাই করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এতে মূল ব্যাংকিং সেবায় কোনো প্রভাব পড়েনি, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই সাইট খুলে দেওয়া হবে। তবে সার্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে ইতিমধ্যে অন্তত একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়েবসাইট হ্যাকারদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছে।
বাংলাদেশে এর আগে কয়েক দফায় কোটি কোটি নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটায় বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অ্যালার্মিং বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন এই পরিস্থিতিকে ‘অবশ্যই উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, "ধরুন, ভূমিসেবার সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেউ ভূমি রেকর্ড পাল্টে দিল, অথবা আয়কর সাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানকার তথ্য মুছে দিল। তাহলে কী পরিস্থিতি দাঁড়াবে?" ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে বৈশ্বিক পদক্ষেপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের সাইবার নিরাপত্তা দ্রুত নিশ্ছিদ্র করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ
