Published on
:
2 min read
‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে সিজেপি ও বিরোধীদের বিক্ষোভ রুখতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় খোদ রাষ্ট্রপুঞ্জ। এই আবহে মঙ্গলবার দিল্লিতে ব্লুমবার্গ ইকনমিক ফোরামে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, ‘ভারত গণতন্ত্রের জননী। এখানে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে খোলাখুলি বিতর্ক করেন।’ উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে পুলিশের ধরপাকড় নিয়ে ফলাও প্রচার করেছিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিও। এই মন্তব্য তাই আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে বার্তা বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
এ দিন দেশের নানা ভাষা, নানা মতের প্রসঙ্গ টেনে মোদী মনে করিয়ে দেন, ‘ভারতে ১০০-রও বেশি ভাষা রয়েছে। সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্রের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। রয়েছে হাজারের বেশি স্যাটেলাইট চ্যানেল।’ এর সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার কথাও বলতেও ভোলেননি তিনি। মোদীর কথায়, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভারতে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ ইউটিউব ব্যবহার করেন। ইনস্টাগ্রাম ইউজ়ারের সংখ্যাও ৫০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে।’
এর পরেই মোদী বলেন, ‘আমাদের দেশে মানুষ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করেন। বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক করেন।’ মোদীর কথায়, ‘হাজার হাজার বছরের ঐতিহ্য আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে। ভারতের শাসনব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে আমরা এই দর্শনের প্রয়োগ দেখিয়েছি।’
ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহারের উপরেও জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘যাঁদের জ্ঞান, সম্পদ ও ক্ষমতা রয়েছে, তাঁরা কী ভাবে তা ব্যবহার করছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতার প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে তার উদ্দেশ্যের উপর।’
সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়েও খুব স্পষ্ট ভাবে নিজের মত জানান তিনি। মোদী বলেন, ‘সরকারের হাতে ক্ষমতা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার উদ্দেশ্য নাগরিকদের ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল করে তোলা নয়। বরং নাগরিকদের আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’ ভারত সেই পথেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ভূমিকা তুলে ধরে মোদী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত যথেষ্ট শক্তিশালী। ধারাবাহিক সংস্কারই সেই বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’ মোদীর কথায়, ‘আমরা কারও ক্ষতি করে নিজের ভালোয় বিশ্বাসী নই। বিশ্বের সঙ্গে এবং বিশ্বের জন্য এগিয়ে যাই।’
বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে গোটা দুনিয়াকে সতর্ক করে দেন তিনি। মোদীর বক্তব্য, সরবরাহ ব্যবস্থা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ভারতীয় অর্থনীতি এই সব ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম বলে মনে করেন তিনি।
