সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রতিবেদন: কমেছে খুন, বেড়েছে ধর্ষণ। এটি আগামীর সময়ের শিরোনাম। এতে বলা হয়, দেশে অপরাধের চিত্রে দেখা যাচ্ছে মিশ্র রূপান্তর। কোথাও স্বস্তি, আবার কোথাও গভীর উদ্বেগ। কমেছে খুন, দস্যুতা ও দাঙ্গার মতো অপরাধ। কিন্তু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, চুরি ও মাদক সেবন-কারবারের মতো অপরাধের ঊর্ধ্বমুখী সূচক জাগাচ্ছে শঙ্কা। এসব ঘটনায় বেড়েছে মামলার সংখ্যাও।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উঠে এসেছে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমনই চিত্র। যে পরিসংখ্যানে তুলে ধরা হয়েছে অপরাধের ধরন অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এ বছরের সংখ্যা।
স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে হওয়া এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে নথিভুক্ত হওয়া মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৬টি, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৬টি। এক বছরের ব্যবধানে মামলার সংখ্যা বেড়েছে ১৩ হাজার ৭৯০টি।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ২ হাজার ৬৫৯টি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যা গত বছর ছিল ২ হাজার ৯১৩টি। গত বছরের তুলনায় খুন কমেছে ২৫৪টি।
এ সময় তুলনামূলক কমেছে ডাকাতি, দাঙ্গা ও অপহরণের ঘটনাও। চলতি বছর ৩৮৭টি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত বছর যা ছিল ৫৩৮টি। গত বছরের তুলনায় এ বছর দস্যুতা কমেছে ১০৯টি। চলতি বছর ১ হাজার ৩৭৪টি দস্যুতার ঘটনা ঘটলেও গত বছর ছিল ১ হাজার ৪৮৩টি।
গত বছর ৬২টি দাঙ্গার ঘটনা ঘটলেও এ বছর ৪৫টি কমে তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭টিতে। গত বছর ৮১২টি অপহরণের ঘটনা ঘটলেও এ বছর ৪৩টি কমে তা ৭৬৯টিতে এসেছে। গত বছর বিস্ফোরকদ্রব্য-সংক্রান্ত ২৮৬টি ঘটনা ঘটলেও চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৯৮টি ঘটনা কমে তা ১৮৮টিতে এসেছে। গত বছর দ্রুত বিচার আইনের মতো গুরুতর ৭৪৩টি অপরাধ সংঘটিত হলেও চলতি বছর ১৪৮টি কমে তা ৫৯৫টিতে এসেছে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, অপরাধের কিছু খাতে স্বস্তিদায়ক এমন চিত্র থাকলেও নারী ও শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তির ছিল না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ৫ হাজার ৩৮১টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা গত বছরের ৪ হাজার ১১০টি থেকে ১ হাজার ২৭১টি বেশি। তবে নারী নির্যাতন মামলা ৯ হাজার ২৬২টি থেকে কমে ৮ হাজার ১৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। উল্লিখিত সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা কমেছে ৪৪০টি। গত বছর ৩ হাজার ৫৯১টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও চলতি বছর তা কমে ৩ হাজার ১৫১টিতে এসেছে। তবে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা গত বছরের চারটি থেকে বেড়ে পঁাচটিতে এসেছে।
একই সময়ে সিঁধেল চুরি ২ হাজার ২৫৫টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৪৫টিতে। সাধারণ চুরিও ৭ হাজার ২৭৩টি থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৩৪০টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময় মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলার বেশ ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা গেছে। এ মামলা ৩৯ হাজার ৫০টি থেকে ১৪ হাজার ৩২২টি মামলা বেড়ে ৫৩ হাজার ৭২টি দাঁড়িয়েছে, যা অপরাধ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৪৬৩ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলেও চলতি বছর আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪১ জন।
পরিসংখ্যানে গত বছর এবং চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনামূলক তথ্যেও একই চিত্র উঠে এসেছে। এ সময় খুন কমলেও ধর্ষণের সঙ্গে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেশ বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এই তিন মাসে ৫৫ হাজার ৪৫৪টি মামলা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৬ হাজার ৪৭৯টি। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খুন কমেছে ৯৯টি। চলতি বছর ৮৮১টি খুন হলেও গত বছরের একই সময়ে ৯৮০টি খুনের ঘটনা ঘটে।
তবে এই সময়েও বেড়েছে ধর্ষণ। গত বছর ১ হাজার ৩৭০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও তা বেড়ে চলতি বছর একই সময়ে ২ হাজার ১২৯টিতে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে নারী নির্যাতনও। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ হাজার ২৩৬টি নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ হাজার ১২৫টিতে। এ সময় চুরির ঘটনা খানিকটা কমলেও সিঁধেল চুরি বেড়েছে। এ ছাড়া মাদক মামলা ১৪ হাজার ১০৩টি থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৬৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। গত বছর এ সময় ১৩৩ জন পুলিশ আক্রান্ত হলেও এ বছর তা কমে ১২৩টিতে এসেছে।
বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে গত বছর এবং চলতি বছরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র জানতে চান কমিটির সদস্যরা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। উপস্থাপিত চিত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘উন্নতি’ হওয়ায় বৈঠকে উপস্থিত কমিটির সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া সারা দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। এক্ষেত্রে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম (বুলবুল), মো. আব্দুল বাতেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অধিদপ্তরগুলোর মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোটের আগে ২০৩ এমপির জন্য বিশেষ বরাদ্দ— সমকালের প্রধান সংবাদ এটি।এতে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
মন্ত্রীর অভিপ্রায়ে ২০৩টি আসনে এমপিরা তাদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারবেন। বিশেষ এই বরাদ্দের পরিমাণ ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
আগামী বছর ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দের টাকা খরচ করতে হবে। আর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত।
বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, এমন আসনের ইউনিয়নগুলো এই বিশেষ বরাদ্দ পায়নি।
তবে বিরোধী জোট ছেড়ে যাওয়া খেলাফত মজলিসের এমপির আসনের (সিলেট-৫) ইউনিয়নগুলোর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বিরোধী দলের এমপিরা বলছেন, ইউপি নির্বাচনের আগে সরকারি দলের এমপিরা যাতে নিজেদের পছন্দের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেন, সেজন্যই এই বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রভাবিত হবে।
প্রথম আলোর শিরোনাম— স্নাতক অন্য বিষয়ে, তবু ইংরেজি গণিত পড়ান ২০ হাজার শিক্ষক। এতে বলা হয়, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়ানো ৯ হাজার ৯৮২ শিক্ষকের স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি বিষয় ছিল না। আর গণিত পড়ানো শিক্ষকদের মধ্যে ১০ হাজার ১৬৯ জনের স্নাতকে গণিত নেই।
সব মিলিয়ে ২০ হাজারের বেশি শিক্ষক স্নাতকে অন্য বিষয়ে পড়লেও ক্লাস নিচ্ছেন ইংরেজি ও গণিতে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) 'বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান- ২০২৫' প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুধু বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা নয়, শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণেও রয়েছে বড় ঘাটতি।
মাধ্যমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের প্রায় ৪০ শতাংশের বিএড, এমএড, বিপিএডের মতো পেশাগত প্রশিক্ষণ নেই।
শিক্ষক ও শিক্ষাবিদেরা বলছেন, মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক; কিন্তু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদেরও ইংরেজি ও গণিতের ক্লাস নিতে হচ্ছে।
এতে বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে পড়াশোনা হয় না। শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় পাসের প্রস্তুতি নিতে বিদ্যালয়ের বাইরেও অর্থ খরচ করে কোচিং ও প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে।
নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম— Labour unrest puts garment industry on alert; শ্রমিকদের বিক্ষোভে সতর্ক অবস্থায় পোশাক শিল্প। এই খবরে বলা হয়, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সম্প্রতি ঢাকা ও ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে উচ্চ মজুরির দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যা রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শ্রমিক অধিকারকর্মীরা বলেছেন, একটি ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন এই অসন্তোষ দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, কারখানার মালিকরা অভিযোগ করেছেন, সরকার ও মালিকপক্ষ বোর্ড গঠনে সম্মত হওয়া সত্ত্বেও স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে।
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা ত্রিশ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরি, বর্ধিত ভাতা ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করেন। গাজীপুরসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভ হয়েছে।
এর মধ্যে উত্তরায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধকারী শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান অস্থিরতা পোশাক খাতকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কারখানার মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম— ডিসেম্বরে অনিশ্চিত বিএনপির কাউন্সিল। এই খবরে বলা হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বরে বিএনপির সপ্তম কাউন্সিল নিয়ে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। দলটি এখন কাউন্সিল নয়, আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত।
সম্প্রতি দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক বৈঠক হলেও কাউন্সিল নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব থাকাকালে একাধিকার বিএনপির কাউন্সিলের কথা বললেও এখন কেউ কাউন্সিলের কথা বলছেন না।
বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দলীয় কাউন্সিল না হলেও নেতৃত্বের সংকট রাখতে চায় না নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এজন্য অভ্যন্তরীণভাবে শূন্য পদ পূরণে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। গত অগাস্ট থেকেই এ প্রক্রিয়া চলছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'সপ্তম কাউন্সিলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানিয়ে দেওয়া হবে।'
ছাড়ার আগেই টিকিট ব্লক— আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। খবরটিতে বলা হয়, ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের জন্য অনলাইনে টিকিট ছাড়ার কয়েক দিন আগেই অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে টিকিট ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। চাইলেই এই সুযোগ নিতে পারেন ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান 'সহজ'-এর প্রতিনিধি ও রেলওয়ের বুকিং সহকারীরা।
এভাবে টিকিট ব্লক করার বিষয়টি ধরা পড়েছে রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থা নিয়ে করা আইটি অডিটে (নিরীক্ষা)। অডিটে 'সহজ' কর্মীদের পরিচালনায় প্রায় ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্টের তথ্য রয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে সহজের প্রতিনিধি ও বুকিং সহকারীদের যোগসাজশে টিকিট কালোবাজারির সুযোগ রয়েছে।
২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিআরআইটিএস-এর কার্যক্রম নিয়ে করা এই অডিটে আরও অনিয়ম ধরা পড়েছে।
কালের কণ্ঠের শিরোনাম— জলবায়ু-যুদ্ধে ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা। এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও সরবরাহ-শৃঙ্খলে বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৬ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছে।
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ৬৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিয়মিত পর্যাপ্ত না। চরম তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি প্রায় ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট কমছে। খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও সারের বাজারে অস্থিরতা এবং যুদ্ধের প্রভাবে বিশেষ করে নিম্ন আয় ও ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি, লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রাজস্ব সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), জাতিসংঘ এবং আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সপ্তাহব্যাপী বৈঠকের চতুর্থ দিনে অনুষ্ঠিত ‘বিপর্যয়ের মুখে খাদ্য নিরাপত্তা’বিষয়ক প্যানেল আলোচনায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং এসব সংকটের সামষ্টিক অর্থনীতিতে প্রভাব নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ ও করণীয় তুলে ধরেন আলোচকরা।
এর আগে গত বুধবার ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে, রুর ইউনিভার্সিটি বোকুমের আন্তর্জাতিক শান্তি ও সশস্ত্র সংঘাত বিষয়ক ইনস্টিটিউট এবং সুইস সংস্থা হেলভেটাস কর্তৃক যৌথভাবে ‘খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নয়’ এই প্রতিপাদ্যে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে তালিকাভুক্ত ১২২টি দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধা নির্মূলের লক্ষ্য আরো নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ২০০০ সাল থেকে পরিলক্ষিত এই ধারা যদি একই গতিতে চলতে থাকে, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫৭টি দেশের পরিস্থিতি আরো অবনতি হতে পারে।
গুদামে চাল আছে, থালায় পুষ্টি নেই। ইত্তেফাকের একটি শিরোনাম। এতে বলা হয়, দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত এখন স্বস্তিদায়ক। চাল ও গম মিলিয়ে মজুত রয়েছে ২২ লাখ ৮৫ হাজার ৬২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চালের মজুত ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ টন। কিন্তু গুদামের এই স্বস্তির সঙ্গে মানুষের পুষ্টির চিত্র মেলে না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ও অংশীদারদের প্রকাশিত স্টেট অফ ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড (সোফি) ২০২৬ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ—প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য থেকে বঞ্চিত। অর্থাত্ খাদ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না, তার পাশাপাশি মানুষের সেই খাবার কেনার ক্ষমতাও এখন খাদ্যনিরাপত্তার বড় প্রশ্ন। এফএও বলছে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের মূল্য আর তা মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা এক বিষয় নয়। খাদ্যের দাম নির্ধারণের পাশাপাশি মানুষের আয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ও খাদ্য কেনার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
শিশুদের খাদ্যাভ্যাসেও সংকটের চিত্র স্পষ্ট। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের ‘মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য বলছে, ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সি শিশুদের মাত্র ৩৫ শতাংশ ন্যূনতম খাদ্য বৈচিত্র্য পাচ্ছে। আর ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পাচ্ছে মাত্র ৩০ শতাংশ শিশু।
অর্থাত্, শিশুকে খাবার দেওয়া হচ্ছে—কিন্তু বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার মহুয়া এ প্রসঙ্গে গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে জীবনের প্রথম দুই বছর শিশুর শারীরিক ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময়ে পর্যাপ্ত ও সুষম পুষ্টি না পেলে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টি, কম ওজন, রক্তস্বল্পতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, এমআইসিএস ২০২৫ অনুযায়ী, ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সি মাত্র ৩০ শতাংশ শিশু ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পাচ্ছে। অর্থাত্, প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে ৭০ জন বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্যবৈচিত্র্য ও পর্যাপ্তবার খাবার গ্রহণের মানদণ্ড পূরণ করতে পারছে না। এর পেছনে পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা ও ব্যাবহারিক জ্ঞানের ঘাটতিও রয়েছে। তবে বিষয়টিকে শুধু অভিভাবকের অসচেতনতা হিসেবে দেখলে চলবে না; খাদ্যের দাম, সহজলভ্যতা ও পুষ্টিবিষয়ক তথ্য পাওয়ার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউট ট্রাস্টের সভাপতি, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ইত্তেফাককে বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য এক বিষয় নয়। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে নিম্ন আয়, খাবারের উচ্চমূল্য, সরবরাহব্যবস্থা এবং মানুষের সচেতনতার মতো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু নিম্ন আয়ের মানুষই নয়, উচ্চ আয়ের অনেক মানুষও পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে অনিরাপদ খাবার গ্রহণ করেন। এর অন্যতম কারণ নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাব। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ ও গবেষক বলেন, খাদ্যনিরাপত্তাকে শুধু খাদ্যের পর্যাপ্ততা দিয়ে বিচার করলে হবে না। মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষকে সেই খাবার সম্পর্কে সচেতন করাও জরুরি।
চালে স্বস্তি, গমে সঙ্কট- জলবায়ুর চাপে খাদ্যনিরাপত্তা। নয়াদিগন্তের এই খবরে বলা হয়, ধান উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও খাদ্যনিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জে পড়েছে বাংলাদেশ। একদিকে চাহিদার তুলনায় চালের উৎপাদন কোটি টনেরও বেশি, অন্যদিকে বছরে প্রায় ৮০ লাখ টন গমের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন মাত্র ১১ লাখ টনের ঘরে। ফলে গমের চাহিদার বড় অংশ মেটাতে হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহব্যবস্থার বিঘেœ বাড়ছে আটা-ময়দার দাম, চাপে পড়ছে সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলে লবণাক্ততা, বরেন্দ্রে পানিসঙ্কট এবং হাওরে আগাম বন্যা কৃষি উৎপাদনের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শুধু খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানো নয়, কৃষির অভিযোজন সমতা, খাদ্যের বৈচিত্র্য এবং মানুষের ক্রয়মতা নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।
এ প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘“আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় উদ্ভাবন, ঐতিহ্যগত জ্ঞানের ব্যবহার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সবার জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা বলছে, উৎপাদনের সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের সরবরাহ, বাজারমূল্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
গমের চাহিদা বাড়ছে, উৎপাদন বাড়ছে না
দেশে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চাল উৎপাদন হয়েছে প্রায় চার কোটি ২৪ লাখ টন। বার্ষিক চাহিদা তিন কোটি সাত লাখ থেকে তিন কোটি ৯ লাখ টন। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি। বিপরীতে, বছরে প্রায় ৮০ লাখ টন গমের চাহিদার বিপরীতে গত অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ২৩ হাজার টন। গত প্রায় ১৭ বছর ধরে গমের বার্ষিক উৎপাদন এই সীমার আশপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
কৃষি উৎপাদনের এ বৈপরীত্যের সাথে যুক্ত হয়েছে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপ অনুযায়ী, ছয় বছরের ব্যবধানে গমজাত খাবারের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ। শহরাঞ্চলে বৃদ্ধির হার প্রায় ২৬ শতাংশ। একই সময়ে চালের ভোগ কমেছে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
স্বাস্থ্যসচেতনতা, নগরজীবনের পরিবর্তন এবং খাবারে বৈচিত্র্য আনার প্রবণতায় রুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুট, নুডলস ও পাস্তা এখন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। অনেক পরিবারে এক বেলা ভাতের পাশাপাশি দুই বেলা রুটি খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। কয়েক বছর আগে চালের তুলনায় আটার দাম কম থাকায় নি¤œ আয়ের মানুষও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য রুটির দিকে ঝুঁকেছিলেন। গত বছর মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা থাকলেও খোলা আটার দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা।
কিন্তু গমের উৎপাদন না বাড়ায় খাদ্যাভ্যাসের এ পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে পারছে না দেশীয় কৃষি। গত অর্থবছরে বিদেশ থেকে ৬৫ লাখ ৮১ হাজার টন গম আমদানি করতে হয়েছে। অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদনে মিটলেও বাকি প্রায় ৮৫ শতাংশের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
আটা-ময়দার দাম বাড়ায় ভোক্তার চাপ :
আমদানিনির্ভরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহে বিঘœ, পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের গমের বাজারে দ্রুত পড়ে। এতে কয়েক বছর আগে তুলনামূলক সস্তা খাবার হিসেবে গমজাত পণ্য বেছে নেয়া পরিবারগুলোর ব্যয়ও বেড়েছে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্যাকেটজাত আটা-ময়দার দাম সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত বছর প্যাকেটজাত ময়দার কেজি ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটা-ময়দার দামও ধরনভেদে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
অন্যদিকে, টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় মোটা চালসহ কয়েক ধরনের চালের দাম সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এতে খাদ্যবাজারে পণ্যের মূল্যচাপের অসম চিত্র ফুটে উঠেছে। চালের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও আটা-ময়দার বাড়তি দাম খাদ্যব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করছে।
খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্নে এ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে খাদ্যপণ্য থাকলেই মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না; তা কেনার সামর্থ্যও থাকতে হয়। বিশেষ করে নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোর আয় সীমিত হলে খাদ্যের দাম বাড়ার সাথে সাথে খাবারের পরিমাণ কিংবা পুষ্টির বৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে এফএওর সতর্কতা: জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত মূল্যায়নে বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ধান উৎপাদনে তুলনামূলক স্বস্তি থাকলেও গমের আমদানিনির্ভরতা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়মতার সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
