
শাহেদ সরওয়ার, সংযুক্ত আরব আমিরাত | রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:০৬
ছবি সংগৃহীত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মোহাম্মদ আবু জাহেদ (৪৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা। বাবাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তাঁর ১০ ও ৩ বছর বয়সী দুই কন্যাশিশু। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের রাউজানে পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আবু জাহেদ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিংগলা গ্রামের মফজল ডাক্তার বাড়ির মৃত মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে। তাঁর দুই মেয়ে জেরিন আকতার (১০) ও আফরিন আকতার (৩)।
স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, রাউজান কলেজে পড়াশোনা শেষ করে আবু জাহেদ রাউজান উপজেলা সদরের ফকিরহাট বাজারে টেলিকম ব্যবসা শুরু করেন। পরে জীবিকার সন্ধানে ২০০৩ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে দুবাই ও শারজাহ এলাকায় বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। সর্বশেষ শারজাহর একটি গ্রোসারিতে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০২৫ সালে ছুটিতে দেশে ফেরেন আবু জাহেদ। কয়েক মাস পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আবারও আরব আমিরাতে ফিরে যান। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রবাসে ফিরে যাওয়ার এক মাসের মাথায় তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
স্বজনদের দাবি, শনিবার রাতে শারজাহর যে বাসায় আবু জাহেদ ঘুমিয়ে ছিলেন, তার পাশের কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের ধোঁয়ায় ঘুমের মধ্যেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। প্রিয়জনের এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। বিশেষ করে অল্প বয়সী দুই মেয়েকে রেখে বাবার চিরবিদায়ের ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে বাবার হাত ধরে বেড়ে ওঠার কথা ছিল দুই শিশুর, সেই বাবার আর কখনো ফিরে না আসার বাস্তবতা মেনে নেওয়া পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
এদিকে আবু জাহেদের মৃত্যুর সংবাদে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন্ধু মো. আবছার, আলমগীর হোসেন ও আবু হানিফ জানান, স্কুল-কলেজজীবন থেকেই জাহেদ বন্ধুমহলে অত্যন্ত পরিচিত ও প্রাণবন্ত একজন মানুষ ছিলেন। দেশে ছুটিতে এলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো ও আড্ডায় মেতে উঠতেন তিনি। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।
মৃত্যুকালে আবু জাহেদ স্ত্রী, দুই কন্যাসন্তান, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চায় প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান: শারজাহতে জমকালো আয়োজনে কলম একাডেমি লন্ডনের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

শাহেদ সরওয়ার, ইউএই প্রতিনিধি: | মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৪৪

ছবি সংগৃহীত।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে জমকালো আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে কলম একাডেমি লন্ডনের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। গত রবিবার (৪ অক্টোবর) বেলা ১টায় শারজাহ ন্যাশনাল পার্কে কলম একাডেমি লন্ডন—ইউএই চ্যাপ্টারের ব্যবস্থাপনায় “অক্ষরে অমরতা” স্লোগানকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব শাহেদ সরওয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চ্যাপ্টারের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌয়ব চৌধুরী।
প্রধান অতিথি ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাই ও উত্তর আমিরাতের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (রিজিওনাল ম্যানেজার) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চ্যাপ্টারটির মধ্যপ্রাচ্য সমন্বয়ক (মিডইস্ট কোঅর্ডিনেটর) কবি মোফাচ্ছেল হক শাহেদ। প্রধান বক্তা ছিলেন ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক (ইউএই)-এর ব্যবস্থাপক ও চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন ভূঁইয়া এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন চ্যাপ্টারের উপদেষ্টা ও লেখক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন পলাশ।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রবাস)-এর সভাপতি সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সাংবাদিক মাহবুব সরকার, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জালাল আহাম্মদ, রফিকুল ইসলাম রুমান, সেকান্দর চৌধুরী ও ফারদিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন কলম একাডেমি লন্ডনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হাবিবী।
বক্তারা প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁরা বলেন, সত্য, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কলমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, কলম কেবল লেখার মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তা, বিবেক ও সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার। একটি শব্দ মানুষের চিন্তার জগতে পরিবর্তন আনতে পারে, একটি কবিতা জাগিয়ে তুলতে পারে বিবেক, আর একটি সত্যনিষ্ঠ লেখা হয়ে উঠতে পারে সময় ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
অনুষ্ঠানে কেক কাটা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ১৬ বছরের পথচলায় কলম একাডেমি লন্ডনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
