বলিউড সংগীতের জাদুকরী কণ্ঠস্বর এবং পঞ্চমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নন্দিত গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল তাঁর সুদীর্ঘ প্লেব্যাক ক্যারিয়ারের এক আকর্ষণীয় অধ্যায় উন্মোচন করেছেন। সম্প্রতি ‘বিলবোর্ড ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর দুই দশকের বেশি সময়ের সংগীত যাত্রার পেছনের গল্প এবং জনপ্রিয় গান তৈরির নেপথ্য স্মৃতিকথা শেয়ার করেছেন। দীর্ঘ এই সংগীত জীবনে অসংখ্য সুপারহিট গান উপহার দেওয়া এই তারকা জানিয়েছেন ২০১৩ সালের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘আশিকি টু’-এর বিশ্বখ্যাত ‘সুন রহা হ্যায় না তু’ গানটি নিয়ে তাঁর এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা।
চলচ্চিত্রের গল্পের প্রয়োজনে এবং চরিত্রের নিখুঁত রূপায়ণের জন্য গানটিকে দু’বার স্টুডিওতে রেকর্ড করতে হয়েছিল এই শিল্পীকে। শ্রেয়া ঘোষাল জানান, ২০১৩ সালের এই রোমান্টিক চলচ্চিত্রে শ্রদ্ধা কাপুরের অভিনীত চরিত্রটি ছিল সংগীত দুনিয়ায় একদম নতুন। ছবির গল্প অনুযায়ী শ্রদ্ধা পেশাদার কোনো গায়িকা ছিলেন না, বরং একটি সাধারণ ক্লাবে গান গেয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। চরিত্রের সেই সূক্ষ্ম সারল্য এবং অপ্রস্তুত ভাব বজায় রাখতে গানটিতে অতিরিক্ত গায়কীর কারুকাজ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি ছিল, যা প্রথম রেকর্ডিংয়ে কিছুটা ভিন্নভাবে হয়েছিল।
ঘটনাটির পেছনের স্মৃতিচারণ করে শ্রেয়া জানান, তিনি প্রথমে তাঁর স্বভাবসুলভ ক্লাসিক্যাল ছাঁদে ও পক্কতায় গানটি রেকর্ড করেছিলেন। রেকর্ডিংয়ের ওই দিন পরিচালক মোহিত সুরি স্টুডিওতে উপস্থিত ছিলেন না। পরবর্তীতে পরিচালক মোহিত সুরি এবং প্রযোজক মহেশ ভাট তাঁকে ফোন করে স্পষ্ট জানান যে, পর্দায় শ্রদ্ধা কাপুরকে একজন অনভিজ্ঞ গায়িকা হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে হবে, তাই গানটির প্রকাশভঙ্গি হওয়া চাই আরও সহজ এবং অলংকারহীন।
তাঁদের এই নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে শ্রেয়া পুনরায় স্টুডিওতে ফিরে আসেন এবং গানটির সিংহভাগ অত্যন্ত সাধারণ ও প্লেইন নোটে নতুন করে রেকর্ড করেন। কেবল কাহিনীর আবেগ ফুটিয়ে তুলতে পুরো গানে মাত্র দুটি জায়গায় তিনি সামান্য অলংকরণ বা স্বরের কারুকাজ রেখেছিলেন। তবে বর্তমানে বিভিন্ন লাইভ কনসার্টে গানটি পরিবেশন করার সময় তিনি তাঁর নিজস্ব ক্লাসিক্যাল মেজাজ ও সিগনেচার স্টাইল ঠিকই যোগ করে নেন। মাত্র ষোলো বছর বয়সে সঞ্জয় লীলা বনশালীর ‘দেবদাস’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখা এই বরেণ্য শিল্পী ‘ইয়ে ইশক হায়’, ‘দিওয়ানি মস্তানি’, ‘চিকনি চামেলি’, ‘তেরি ওর’-এর মতো অজস্র কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে আজো কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন।
