শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। অর্জিত জ্ঞান যদি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজে না আসে, তাহলে সেই শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা থাকে না।
রোববার (১১ অক্টোবর) নগরীর রহমতগঞ্জে জামাল খান কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
- Advertisement -
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, সময়ানুবর্তিতা ও অধ্যবসায়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে মেয়র বলেন, জীবনে সফল হতে হলে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে, শিক্ষকদের পাঠদান মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করতে হবে এবং মা-বাবার উপদেশ মেনে চলতে হবে। ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে যারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে, তাদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শৃঙ্খলা ও নিয়মিত চর্চাই ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার ভিত্তি তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে কেউ ইভটিজিং, হয়রানি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানাতে হবে। প্রয়োজনে তাঁকেও বিষয়টি অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন মেয়র।
খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে হলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ মন ছাড়া পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাঠ উন্নয়নের পাশাপাশি ছোট পরিসরে ফুটসাল মাঠ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব মাঠে ছেলে ও মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ থাকবে। শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশ এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, সকালের নাশতা না খেয়ে বিদ্যালয়ে আসা উচিত নয়। সময়ের স্বল্পতা থাকলেও এক গ্লাস দুধ, একটি ডিম ও একটি কলা খেয়ে বিদ্যালয়ে আসা যেতে পারে। সুষম খাদ্য গ্রহণ শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি পড়াশোনায় মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
শিক্ষক ও মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে। একজন চিকিৎসক, আইনজীবী কিংবা শিক্ষক যখন নিজের পেশাগত জ্ঞান অসহায় ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেন, তখনই তাঁর শিক্ষার সামাজিক মূল্য প্রতিষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যতে কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান মেয়র।
পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও পরিত্যক্ত পাত্র ফেলে রাখলে নালা-নর্দমায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, পরিত্যক্ত বোতল, ডাবের খোসা ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারের উপসচিব ড. কিসিঞ্জার চাকমা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব মিসেস নাজমা বিনতে আমিন, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ এস এম জাহিদুল করিম কচি এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মনজুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লোকমান উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, খেলাধুলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
পতেঙ্গায় দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে চসিকের অভিযান, জরিমানা আদায় ৬ হাজার টাকা
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্মিত দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর আওতায় দুটি মামলায় মোট ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয় এবং একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে চসিক অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব সুবল চাকমা, সংশ্লিষ্ট জোন কর্মকর্তা, তত্ত্বাবধায়ক, ওয়ার্ড সুপারভাইজার, চসিকের স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং পতেঙ্গা থানা-পুলিশ সহযোগিতা করে।
সাইকেল ট্র্যাকের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা, অবৈধ পার্কিং প্রতিরোধ এবং নগরবাসীর নির্বিঘ্নে সাইকেল চলাচলের পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
