ঢাকা,১৩ অক্টোবর -আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। এই সিদ্ধান্ত আগামী ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, গত ১৯ আগস্ট বার কাউন্সিল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল-২৫৩/২০১৪-এর পরিপ্রেক্ষিতে লিগ্যাল এডুকেশন কমিটি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একটি যৌক্তিক সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সুপারিশ করে।
লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির মতামতে বলা হয়, আইন পেশার মর্যাদা ও দক্ষতা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা এবং পেশাকে আরও গতিশীল রাখার লক্ষ্যে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে একটি সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা সমীচীন।
গত ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির সভায় আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা যৌক্তিকভাবে ৩৫ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। পরে ওই সুপারিশ বার কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর সভায় উপস্থিত সব সদস্য আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের বিষয়ে একমত হন।
এরপর সর্বসম্মতিক্রমে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত আগামী ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে সভায় উপস্থিত সব সদস্য একমত পোষণ করেন।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সম্মিলিতভাবে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি শুধু আইনজীবীদের স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থেও নেওয়া হয়েছে। কারণ, বিভিন্ন বয়সের মানুষ আইন পেশায় আসার কারণে আইন অঙ্গনে টাউট শ্রেণির মানুষের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। তিনি মনে করেন, বেশি বয়সে অন্য বিভিন্ন জায়গায় নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে টাউট প্রকৃতির হয়ে থাকেন। তাঁদের এই পেশা থেকে দূরে রাখতে চান তাঁরা।
তিনি আরও বলেন, ৫০ থেকে ৫৫ বছর বয়সে এসে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি এই পেশায় চলে আসেন, তাহলে এই পেশা কি দুর্নীতিবাজদের জন্য একটি ডাম্পিং স্টেশন?
এস এম/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬
