সুন্দরবন সংলগ্ন ভোলা নদী। সকালে সেই নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছিলেন গ্রামের এক জেলে। তবে নদীতে নামার আগেই চরে এক দৃশ্য দেখে আটকে যান তিনি। দেখতে পান চরজুড়ে বাঘের হেঁটে চলার ছাপ। মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সে খবর। ‘গ্রাম বাঘ ঢুকেছে’—এমন আতঙ্কে তাৎক্ষণিকভাবে মসজিদের মাইক থেকেও সতর্ক করা হয় সবাইকে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে এমনই ঘটনা ঘটেছে সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায়।
বিজ্ঞাপন
তবে বন বিভাগ বলছে, বাঘটি ভোল নদী সাঁতরে এসে পাড় থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ মিটার ঘুরে আবার নদী সাঁতরে সুন্দরবন ফিরে গেছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলছেন তারা।
বন বিভাগ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে উপজেলার সোনাতালা গ্রামের এক জেলে নদী চরে প্রথম বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। পরে ছাপ অনুসরণ করে দেখা গেছে, ভোলা নদী সাঁতরে বাঘটি গ্রামের পানির ঘাট এলাকায় ওঠে। পরে নদী তীর ধরে উত্তর দিকে প্রায় ৫০০-৬০০ মিটার পর্যন্ত গেছে। পরে আবার নদীতে নেমে গেছে।
বিজ্ঞাপন
সোনাতলা গ্রামের ভিটিআরটি সদস্য আব্দুল লতিফ হাওলাদার বলেন, ‘সকালে গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপগুলো দেখতে বন বিভাগ ও ভিটিআরটিকে জানাই। সবই এসে পায়ের ছাপ দেখে বাঘের বিচরণের বিষয়টি নিশ্চিত হন।’
ভিটিআরটির দলনেতা জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ‘নদীর চরে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে। ছাপগুলো দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বাঘটি ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করে সুন্দরবনের দিকে চলে গেছে। তবে বাঘটি পুরোপুরি বনে ফিরে গেছে কি-না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো উদ্বেগ রয়েছে।’
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ধারণা করছি, গেল রাতে ভোলা নদী সাঁতরে বাঘটি লোকালয়ে এসেছিল। পায়ের ছাপ দেখে বাঘটি সুন্দরবনের দিকে ফিরে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। জনসাধারণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।’
নাহিদ ফরাজী/এসআর/এএসএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
