এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণ করবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। আগামী ২৭ অক্টোবর জেলার ১৬টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে গাছ লাগানোর পর সেগুলো বাঁচিয়ে রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য নষ্ট বা দুর্বল চারার পরিবর্তে নতুন চারা লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হবে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ হাজার চারা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, কর্মসূচিতে শুধু এক লাখ গাছ রোপণ নয়, সব কটি চারা বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য তুলনামূলক বড় ও মানসম্মত চারা সংগ্রহ করা হচ্ছে। রোপণের পর কোনো চারা দুর্বল হয়ে পড়লে তা বদলে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রথম চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ শেষে বিকেলে ডিসি পার্কে তাঁর হাতে এক লাখতম চারা রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসূচির প্রস্তুতি হিসেবে আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম সদর সার্কেল ভূমি অফিসে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে চারা তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা এই গাছগুলো শুধু লাগাব না, সঠিকভাবে পরিচর্যাও করব।’
জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামে পাঁচ বছরে দেড় কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘এক দিনে লক্ষ বৃক্ষ, সবুজ পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য’ প্রত্যয়ে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচিতে উপকূলীয় এলাকায় নারকেলগাছ লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক বলেন, উপকূল ও সাগরপাড়ে নারকেলগাছের বৃদ্ধি ও ফলনের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। এ জন্য সন্দ্বীপের একটি বড় অংশ নারকেলগাছে আচ্ছাদিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্য উপকূলীয় এলাকাতেও পরিবেশের উপযোগী গাছ লাগানো হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কর্মসূচির জন্য সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন থেকে ৩০ হাজার, বিভিন্ন এনজিও থেকে ১৭ হাজার এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ থেকে ১০ হাজার চারা সংগ্রহ করা হয়েছে। আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর, নৌবাহিনীসহ অন্যান্য উৎস থেকেও চারা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাকি চারা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হবে।
উপজেলাগুলোর চাহিদা অনুযায়ী ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছের চারা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আমড়া, মেহগনি, গর্জন, আমলকী, হরীতকী, জারুল ও বকুল। চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন স্থানে চারা রোপণের জন্য গর্ত তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), ডিজিএফআই, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সমাজসেবা অধিদপ্তর, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর, চিড়িয়াখানা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক থাকাকালে জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় এক লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১০ মে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচির এক লাখতম চারা তিনি একই বছরের ১০ জুলাই সাইনবোর্ড এলাকার সড়কদ্বীপে রোপণ করেন।
