আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান সর্বজনীন পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় আহতদের সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুলে অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি। আহতদের চিকিৎসা, হাসপাতালের শয্যা এবং রোগীদের স্থানান্তর নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে দাবি করা হল, কোনও দায়িত্ব পালনে খামতি রাখা হয়নি। রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়নি জোর করে, বরং তাঁদের পরিবারের ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আহতদের প্রথমে মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা করা হয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার পর পরিবারের পছন্দ অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে ‘রেফার’ বলা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্তা। তাঁর কথায়, “এটা রেফার নয়, ইচ্ছাপূরণ অনুযায়ী তাঁদের শিফট করা হয়েছে।”
তাঁর দাবি, রাত ৭টা থেকে ১২টার মধ্যে রোগীদের স্থিতিশীল করার কাজ চলে। তার পরেই তাঁদের স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট রোগীদের পরিবারের তরফে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্তার বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই পরিবারের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিরোধীদের তরফে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের ঝাঁ চকচকে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেই অভিযোগের জবাবে শারদ্বত বলেন, শব্দের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য, স্থানান্তর এবং রেফার এই দু’টি বিষয়কে এক করে দেখলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং শয্যা নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। তাঁর দাবি, মেডিক্যাল কলেজ এবং এসএসকেএম হাসপাতালে কোনও শয্যা খালি নেই। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভিড় এবং শয্যা না পাওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর প্রশ্ন, হাসপাতালে শয্যা নেই বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতি কী, তা পরিসংখ্যান দিয়ে যাচাই করা উচিত।
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মৃত্যুর হার নিয়েও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যকর্তা। তাঁর দাবি, দুই ক্ষেত্রেই মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে একই। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তিনি উল্লেখ করেননি। চিকিৎসক সংগঠনগুলির উদ্দেশেও তাঁর বার্তা, আবেগ বা অনুমানের বদলে তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আলোচনা হওয়া উচিত।
চিকিৎসা সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে সরাসরি স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে তা জানানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে কারও কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা সামনে এসে জানানো উচিত।
