প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তি। বিশেষ করে সমুদ্র, পাহাড়ি এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল কিংবা একেবারেই নেই, সেখানে এই প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে সেবাটি ব্যবহারের আগে ফোনের উপযোগিতা, নেটওয়ার্কের আওতা এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্ত সম্পর্কে জেনে রাখা জরুরি।
ফোনে ৪জি সুবিধা থাকলেই যে স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যাবে, এমন নয়। এ ক্ষেত্রে ফোনের নির্দিষ্ট মডেল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং অপারেটরের সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেবা চালুর আগে নিজের ফোনটি সমর্থিত কি না, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য খোলা আকাশের দৃশ্যমানতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঘন গাছপালা, উঁচু ভবন, পাহাড় কিংবা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে সংযোগ দুর্বল হতে পারে বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ঘরের ভেতরে কিংবা চারপাশে বড় প্রতিবন্ধকতা রয়েছেÑ এমন জায়গায় সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তিকে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে কিংবা দুর্বল সংযোগের এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু যোগাযোগসেবা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করাই এ প্রযুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য। ফলে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো সব ধরনের সেবা ও একই মানের সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
সেবার মূল্য, সমর্থিত অ্যাপ এবং ব্যবহারের শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সংযোগ চালুর আগে বাংলালিংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা মাইবিএল অ্যাপ থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। কোন প্যাকের আওতায় সেবা পাওয়া যাবে, কী কী সুবিধা থাকবে এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তি বিশেষ করে সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকেত না পাওয়া গেলে নির্দিষ্ট কিছু যোগাযোগসেবা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। উপযুক্ত ফোন ও সমর্থিত সিমের মাধ্যমে আলাদা স্যাটেলাইট ডিশ ছাড়াই এ ধরনের সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে। তবে সংযোগ পাওয়ার বিষয়টি ফোনের সামঞ্জস্য, সেবার আওতা এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভরশীল।
তাই স্টারলিংকের মোবাইল সেবা ব্যবহারের আগে ফোনের উপযোগিতা, সমর্থিত অ্যাপ, নেটওয়ার্কের আওতা এবং বর্তমান প্যাকের শর্ত যাচাই করে নেওয়াই হবে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
