দিনভর কাজে মন বসাতে পারেন না? অস্থিরতা গ্রাস করে থাকে?
সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নিয়ে সমাজমাধ্যম চোখ রাখা, তাড়াহুড়ো করে তৈরি হওয়া, জলখাবার না খেয়েই কাজে বেরিয়ে পড়া— অনেকের দিনের শুরুটা এমনই। তার পর বেলা গড়াতেই কাজে মন বসে না, ক্লান্ত লাগে, বার বার মন চলে যায় অন্য দিকে। অথচ মনোযোগ ধরে রাখতে সবসময়ে কঠিন কোনও নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন নেই। ঘুম থেকে ওঠার পর কয়েকটি ছোট অভ্যাসেই দিনের শুরুটা অনেকটা গুছিয়ে নেওয়া যায়। সকালে কী করছেন, কী খাচ্ছেন এবং কী ভাবে দিনের পরিকল্পনা করছেন, তার প্রভাব পড়তে পারে সারাদিনের মনোযোগ ও কর্মশক্তিতে।
ফোন হাতে ঘুম ভাঙে সকালে? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি
কোন কোন নিয়ম মানবেন সকালে?
১. উঠেই ফোন নয়: চোখ খুলেই ফোনে মেসেজ, ইমেল বা সমাজমাধ্যম স্ক্রল করার অভ্যাস? ঘুম ভাঙতেই মন খুব তাড়াতাড়ি তথ্যের ভিড়ে ঢুকে পড়ে। ফলে নিজের কাজের দিকে মন ফেরানো কঠিন হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ২০–৩০ মিনিট ফোন না দেখার চেষ্টা করুন। ফোনে অ্যালার্ম দিলে সেটি বিছানা থেকে একটু দূরে রাখুন। এই সময়টুকু নিজের জন্য রাখুন। মুখে জল দেওয়ার সময়ে জলের স্পর্শ অনুভব করুন, জানলার বাইরে তাকান কিংবা চা বা কফি ধীরে ধীরে পান করুন। এতে কর্টিসল হরমোনও খানিক পরিমাণে নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. সক্রিয় থাকা: মনোযোগের সঙ্গে শারীরিক সক্রিয়তারও যোগ রয়েছে। হালকা শারীরচর্চা, হাঁটাচলা বা স্ট্রেচিং রক্তসঞ্চালন বাড়াতে, মানসিক চাপ সামলাতে এবং মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। তার জন্য রোজ ভোরে উঠে কঠিন ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। সকালে ১০–১৫ মিনিট হাঁটা কিংবা ঘুম থেকে উঠে কয়েকটি সহজ স্ট্রেচিং করলেও চলবে।
কী ভাবে সকাল শুরু করবেন? ছবি: সংগৃহীত
৩. দিনের উদ্দেশ্য স্থির করা: দিনের শুরুতেই যদি একসঙ্গে অনেক কাজের কথা মাথায় ঘুরতে থাকে, তা হলে কোনটি আগে করবেন, তা ঠিক করতেই অনেকটা সময় চলে যায়। এই সমস্যা এড়াতে দু’মিনিট সময় নিয়ে লিখে ফেলুন, সে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনটি। ইমেল বা কাজের তালিকা খুলে বসার আগেই আসল উদ্দেশ্য স্থির করে নিলে মন নানা দিকে ডানা মেলতে পারে না। সব কাজ একদিনে শেষ করার চাপ না নিয়ে, প্রথমে জরুরি কাজটিতে মন দিন। সেটি শেষ হলে পরের কাজের দিকে এগোন।
৪. খাবারের দিকে নজর: রাতভর না খেয়ে থাকার পর গায়ে বল পেতে হবে তো! শরীরে শক্তি জোগাতে খাবারের প্রয়োজন। কম ক্যালোরির খাবার খেলে ক্লান্তি বাড়তে পারে এবং মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ভাল করে খাবার খেতে হবে। বিশেষ করে ফাইবার এবং কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট।
৫. পর্যাপ্ত জলপান: রাতের ঘুমের পর সকালে দেহে জলের প্রয়োজন পড়তে পারে। শরীরে জলের ঘাটতি হলে ক্লান্তি, বিরক্তি, ঝিমুনি এবং মনোযোগের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস জল পান করার অভ্যাস করতে পারেন। প্রয়োজনে বিছানার পাশে বা এমন জায়গায় জলের বোতল রাখুন, যাতে সহজেই জল পান করা যায়।
