
চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন তিব্বতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৪ জনের বেশি। ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া ও বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভূমিকম্পটি তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নাগকু অঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় আঘাত হানে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের।
ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। ভূমিধসের কারণে কয়েকটি সংযোগ সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গ্রামের বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৩৩৯টির বেশি বাড়িঘর ধসে পড়েছে। আরও শত শত ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর আতঙ্কিত বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পাশাপাশি নিখোঁজ ও আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের মাত্রা বাড়িয়ে ‘লেভেল থ্রি’ ঘোষণা করেছে চীনা প্রশাসন। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দলের ৩৫০ জনের বেশি সদস্য এবং ৮৩টি জরুরি যানবাহন পাঠানো হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তিব্বত মালভূমি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনের গানসু প্রদেশে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
The post তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক appeared first on অর্থসূচক.
