ফ্রান্স, ইতালি ও আলবেনিয়ায় ছড়িয়েছে সহিংস বিক্ষোভ, ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:

ছবি: সংগৃহীত।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। একই সময়ে ইতালির মিলানেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের প্যারিস, লিয়ঁ ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকে কয়েক লাখ মানুষ রাস্তায় নামেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। সরকারি স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। মার্সেইয়ের সিটি হলে সাময়িকভাবে ঢুকে পড়েন একদল বিক্ষোভকারী। লিয়ঁর পর্যটন কার্যালয় ও লিমোজের সিটি হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছিল। রবিবার (১৮ অক্টোবর) তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তার নেতৃত্ব অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন ম্যাক্রোঁ। ফলে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে জানিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর এলিসি প্রাসাদ।
রবিবার সন্ধ্যায় প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায়ও বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাতলে এলাকায় ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী তাণ্ডব চালায়। এ সময় পাঁচটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। শনিবারের তুলনায় সহিংসতা কমলেও মধ্যরাতের পর পর্যন্ত অস্থিরতা ছিল।
সংকট মোকাবিলায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক করার কথা রয়েছে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর। বৈঠকে অর্থনীতি, বিমা খাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বিভিন্ন শহরের মেয়রদের নগর ভবনের সামনে সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্রান্সের পাশাপাশি ইতালিতেও বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে সপ্তাহান্তে মিলানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর, ময়লার পাত্র ও চেয়ার ছুড়তে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
এ ঘটনায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তার অভিযোগ, ‘গুণ্ডারা’ বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।
এদিকে ইউরোপের আরেক দেশ আলবেনিয়াতেও বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠেছে। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় রক্ষায় নিয়োজিত দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর ও পেট্রলবোমা ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা।
ফ্রান্স, ইতালি ও আলবেনিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…