ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০ দিনে ৪ লাখ ৬ হাজার ৯০০ মিটার অবৈধ জাল ও ৫৪ কেজি ইলিশ জব্দ করেছে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। ৮ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার চার উপজেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ছয়টি মামলা করা হয়েছে। জব্দ করা জাল ও ইলিশের মোট আনুমানিক মূল্য ৭১ লাখ ৬১ হাজার ৯০০ টাকা।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানা যায়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে এ সময়ে ১৬২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ২৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন আড়তে ২৫১ বার ও বিভিন্ন বাজারে ১৩০ বার পরিদর্শন করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, কাঁঠালিয়ায় ৩৯টি, ঝালকাঠি সদরে ৩৯টি, নলছিটিতে ৪২টি এবং রাজাপুরে ৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানে কাঁঠালিয়ায় ৩২ কেজি, ঝালকাঠি সদরে ১০ কেজি, নলছিটিতে ১০ কেজি এবং রাজাপুরে ২ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
জব্দ করা জালের মধ্যে কাঁঠালিয়ায় ৭১ হাজার মিটার, ঝালকাঠি সদরে ৬১ হাজার ৫০০ মিটার, নলছিটিতে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ মিটার এবং রাজাপুরে ৫৯ হাজার ৫০০ মিটার রয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। আর জব্দ করা ইলিশের বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬ হাজার ৯০০ টাকা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে নদীতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন সুরক্ষায় তিনি জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীসহ দেশের নির্ধারিত নদ-নদী ও জলসীমায় কার্যকর রয়েছে।
মো. শাহীন আলম/এএমকে
