নিজস্ব প্রতিবেদক · ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২:০৮ অপরাহ্ন
সিলেট জেলার ১২টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৩২ জন সহকারী শিক্ষককে বিদ্যালয়ভিত্তিক পদায়ন করা হয়েছে। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এসব শিক্ষককে স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে কর্মস্থল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। গত ১৯ অক্টোবর থেকে তাদের পদায়ন করা বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ পদায়নের তথ্য জানানো হয়।
দাপ্তরিক আদেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সুপারিশে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা গত ১ অক্টোবর সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সশরীরে যোগদান করেন। পরে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়ন, কর্মরত শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক জেলা কমিটি’র সভায় স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে তাদের বিদ্যালয় নির্ধারণ করা হয়।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে, গোলাপগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫৯ জন সহকারী শিক্ষককে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া জকিগঞ্জে ৫৫ জন, ওসমানীনগরে ৫২ জন, কানাইঘাটে ৪৫ জন, বিয়ানীবাজারে ৪৪ জন, কোম্পানীগঞ্জে ৩৭ জন, ফেঞ্চুগঞ্জে ৩৬ জন, বিশ্বনাথে ৩১ জন, দক্ষিণ সুরমায় ২৯ জন, বালাগঞ্জে ১৮ জন, গোয়াইনঘাটে ১৭ জন এবং জৈন্তাপুরে ৯ জনকে পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, পদায়নকৃত শিক্ষকদের কর্মস্থলে যোগদানের সুবিধার্থে গত ১৮ অক্টোবর অপরাহ্নে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে অবমুক্ত করা হয়। তাদের ১৯ অক্টোবর পূর্বাহ্নে নিজ নিজ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হয়ে পদায়ন করা বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শিক্ষকদের কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি। গত ১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের তারিখ থেকে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সরকারি বিধি অনুযায়ী তারা বেতন-ভাতা পাবেন।
এ ছাড়া নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ব্যক্তিগত নথি সংরক্ষণ, দুই কপি সার্ভিস বুক প্রস্তুত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইপিইএমআইএস (IPEMIS) সফটওয়্যারে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ বলেন, স্বচ্ছ লটারির মাধ্যমে নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ভিত্তিক পদায়ন করা হয়েছে। এতে পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। নতুন শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে যোগ দিলে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছি।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
