মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে পদ্মা নদীতে চলছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। তবে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ইলিশ শিকার। নদীর পাড়ে বসছে ইলিশের বাজার। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ইলিশ। প্রকাশ্যে মাছ ধরা ও বিক্রি চললেও মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কলাবাগান, দৌলতদিয়া ঘাট ও দেবগ্রাম এলাকার বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর পাড়ে ইলিশের বাজার বসেছে। এসব বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এভাবে ইলিশ ধরা ও বিক্রি অব্যাহত থাকলে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদীতে মাছ শিকার করা কয়েকজন জেলে জানান, তাঁদের জেলে কার্ড থাকলেও নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি বরাদ্দের চাল পাননি। তবে ভয়ে তাঁরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, জীবিকা নির্বাহের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ শিকার করছেন।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুল উল হক জানান, ইলিশ আহরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব জেলেকে সরকারি বরাদ্দের চাল দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লোকবল সংকটের কারণে কিছুটা অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কার্যকর অভিযান পরিচালনার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকার ও প্রকাশ্যে বিক্রি বন্ধে নৌ-পুলিশের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গোয়ালন্দ ঘাট নৌ-ফাঁড়িতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ত্রিনাথকে পাওয়া যায়নি।
পরে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সচেতন মহলের মতে, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে শুধু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেই হবে না। নদীতে নিয়মিত অভিযান, মাছের বাজারে নজরদারি এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এমএ
