কালবেলা · আন্তর্জাতিক
রিয়াদ বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের
১৫/১০/২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তাদের বাহিনী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানবন্দরটিতে হামলা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুলভাবে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে হামলাটি কখন চালানো হয়েছে ও এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি সারি।
এর আগে ৫ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবের পাঁচটি বিমানবন্দরে ১০টি হামলার ঘটনা ঘটে। আনাদোলুর সরকারি বিবৃতিভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এসব হামলায় ২০ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হন। পাশাপাশি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এসব হামলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু করা হয় কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে। সেখানে পাঁচটি হামলায় ১৮ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হন। পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম শহরের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি হামলা হয়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের আবহা, জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরে একটি করে হামলার ঘটনা ঘটে।
রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, কিং খালিদ বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৪-এ একটি অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানলে আগুন ধরে যায়। এতে পাকিস্তানের এক বাসিন্দা নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হন।
এর আগের দিন শনিবারের একটি হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হন। এ ঘটনার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করে। সোমবার সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
তবে পাঁচটি বিমানবন্দরে চালানো হামলার জন্য দায়ীদের পরিচয় প্রকাশ করেনি সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট অবশ্য কয়েকটি হামলার জন্য হুতিদের দায়ী করেছে। হুতিরাও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা, বিশেষ করে বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে।
গত জুলাই থেকে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে বেসামরিক বিমান চলাচল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর আগে ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে হুতিরা।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
মূল প্রতিবেদনে যান ↗