একসময় ওয়ানডের রঙিন পোষাকই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে পছন্দের সংস্করণ। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই রঙিন পোষাকও এখন রঙ হারিয়েছে। যার সর্বশেষ মঞ্চায়ন দেখা গেছে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে। জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ শুরু করেছে টাইগাররা। যে কারণে দ্বিতীয় ম্যাচটি এখন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রতিপক্ষ স্বাগতিক আফগানিস্তান।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় আবুধাবির শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অলিখিত সেমিফাইনালে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি বাংলাদেশে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। এছাড়াও অনলাইনে স্পোর্টসজিফাই, ক্রীড়া টিভির মতো প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লক্ষ্যটা কঠিন ছিল না বাংলাদেশের। ২৭২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ব্যাটিং উইকেটে হাফসেঞ্চুরিও করতে পারেননি কোনো ব্যাটাররা। বাংলাদেশ হেরে যায় ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের এই চিত্র অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছর ধরেই ব্যাটিংয়ের এমন ভঙ্গুর দশা মঞ্চস্থ করে যাচ্ছেন ব্যাটাররা। এক ম্যাচে একটু ভালো করেন তো খারাপ করেন পরের কয়েক ম্যাচে। বছর দুয়েক বাংলাদেশ যে ম্যাচগুলো জিতেছে, তার সবগুলোতেই নায়ক ছিলেন বোলাররা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে হলে অন্তত বেড়িয়ে আসতে হবে এই ধারা থেকে।
প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানের হারের কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল খেলা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশের জন্য। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিততে তো হবেই, সেই সঙ্গে মেলাতে সমীকরণও। সেটিও সহজ সমীকরণ নয়। প্রথমে ব্যাটিং করলে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। আর পরে ব্যাটিং করলে মেলাতে হবে জটিল সমীকরণ।
প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ম্যাচে তার ৪৬ রানের ইনিংসই ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নিজেরে পুরোনো ‘ব্র্যান্ডের’ ক্রিকেট খেলতে চান তিনি।
আজ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা যেদিন আমাদের নিজস্ব “ব্র্যান্ড” অনুযায়ী টপ ক্লাস ক্রিকেট উপহার দিতে পারব, সেদিনই যেকোনো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া সম্ভব।’
পরিসংখ্যানে দুই দলের অবস্থানই সমান সমান। ওয়ানডে সংস্করণে এখন পর্যন্ত মোট ২২বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ আর আফগানিস্তান। এরমধ্যে দুই দলেরই জয়-পরায় সমান ১১টি করে। দুই দলের সর্বশেষ সিরিজেও জয় ছিল আফগানিস্তানেরেই।
তবে দুই দলের সর্বশেষ পাচ ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, আফগানিস্তান দারুণ ফর্মে আছে। নিজেদের খেলা সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে ৪টিতে জয় পেয়েছে আফগানরা। বিপরীতে, বাংলাদেশ সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে জিতেছে মোটে একটি ম্যাচে। হেরেছে বাকি চারটিতেই।
