আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীপাবলির আগে ফের পকেটে টান পড়তে পারে সাধারণ মানুষের। উৎসবের মরশুমে আতশবাজি কিনতে এবার আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হতে পারে ক্রেতাদের। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের জেরে চলতি বছরে দীপাবলিতে বাজির খুচরো দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে অনুমান করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে উৎসবের আনন্দে বাজি ফাটানোর পরিকল্পনা থাকলে বাড়তি খরচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে সাধারণ মানুষকে।
দেশের অন্যতম প্রধান আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র তামিলনাড়ুর শিবকাশীতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দীপাবলির প্রস্তুতি। সেখানকার বাজি ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাইকারি বাজারে কেনাবেচার তৎপরতা বেড়েছে। তবে ব্যবসার গতি বাড়লেও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বিক্রেতারা। তাঁদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরো বাজারে। উৎসবের আগে যে দামে বাজি বিক্রি হচ্ছে, ছুটির পর সেই দাম আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তামিলনাড়ু ফায়ারওয়ার্কস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এন ইলঙ্গোভন শিবকাশীতে জানিয়েছেন, বাজির পাইকারি ব্যবসা বর্তমানে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তবে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে খুচরো বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীপাবলিকে কেন্দ্র করে বাজারে চাহিদা থাকলেও উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজি তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সালফারের দাম সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একসময় প্রতি কেজি সালফারের দাম ছিল ৭৫ টাকা। পরে সেই দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১৪০ টাকায় পৌঁছে যায়। যদিও পরবর্তীকালে দাম কিছুটা কমে বর্তমানে প্রতি কেজি ১০০ টাকার আশপাশে এসেছে। তবে আগের তুলনায় দাম এখনও বেশি থাকায় আতশবাজি তৈরির খরচের উপর তার প্রভাব পড়ছে।
আতশবাজি তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল প্রয়োজন হয়। ফলে একটি উপাদানের দাম বাড়লেও সামগ্রিক উৎপাদন খরচে তার প্রভাব পড়তে পারে। এর সঙ্গে উৎপাদন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ যুক্ত হওয়ায় নির্মাতাদের সামনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সেই খরচ সামাল দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাজির বিক্রয়মূল্য বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারেন বিক্রেতারা।
দীপাবলির মত বড় উৎসবের আগে বাজির বাজারে সাধারণত চাহিদা বাড়ে। বহু পরিবার উৎসবের কেনাকাটার তালিকায় আতশবাজি রাখেন। কিন্তু এবার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় তাঁদের বাজেটেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে একাধিক ধরনের বাজি কেনার পরিকল্পনা থাকলে মোট খরচ আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত বাজারে কোন ধরনের বাজির দাম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে কাঁচামালের মূল্য, উৎপাদন পরিস্থিতি এবং খুচরো বাজারের চাহিদার উপর। আপাতত শিবকাশীর ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে স্পষ্ট, দীপাবলির আগে আতশবাজির বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। উৎসবের কেনাকাটায় তার প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
