অর্থনীতি ডেস্ক: বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি চিংড়ির চাহিদা এবং প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশের ছয়শ জন চিংড়িচাষিকে সুসংগঠিত করা হয়েছে এবং তাদের উৎপাদনে আধুনিক ও টেকসই পদ্ধতি অনুসরণের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, মন্টেরি বে অ্যাকোয়ারিয়াম এবং টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, এই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করা সম্ভব হবে এবং দেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান টোটালফুড প্রসেসিংয়ের সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এডিডব্লিউআইবি প্রকল্পের মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় চাষি ও শ্রমিকদের শ্রম আইন, মৌলিক অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, চাষিদের সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণ ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি নতুন চাষি সমিতি গঠনের কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, মন্টেরি বে অ্যাকোয়ারিয়ামের পক্ষ থেকে চাষিদের উত্তম মৎস্য চাষ পদ্ধতি, চিংড়ির সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই বহুমুখী সহায়তার ফলে চাষিরা একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব উপায়ে চিংড়ি চাষ করতে পারছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের কঠোর মানদণ্ড বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। এর ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে এবং সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে।
এই উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বেশ কয়েকজন শেফ ও প্রতিনিধি দল সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। সফরকারী প্রতিনিধি দলে আমেরিকান ডাইনিং ক্রিয়েশনস, কিচেনঅপস কনসাল্টিং এবং ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশালের উচ্চপদস্থ কুলিনারি ডিরেক্টররা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা দেশের বিভিন্ন চিংড়ি খামার সরাসরি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় উৎপাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে চাষাবাদের মান সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।
টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউর রহমান মনে করেন যে শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন একসাথে বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের চিংড়ির গ্রহণযোগ্যতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনই উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও এটি সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
