সংবাদ · সাধারণ
‘আগামী বছরও কাটছে না জ্বালানি সংকট’
২৩/১০/২০২৬

বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ সালেও বিশ্ববাসীকে এই জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়েই চলতে হবে। বিকল্প জ্বালানির উৎস সন্ধান এবং সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলেও আগামী বছর পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছেন না তিনি।শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্টমেন্ট সামিট টুওয়ার্ডস কপ-৩১’ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ফাতিহ বিরোল এই সতর্কবার্তা দেন।বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন দেশের জ্বালানিনীতি পর্যালোচনা করে তিনি বলেন, "২০২৭ সালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আমি আশাবাদী নই। আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করার চেষ্টা করলেও এমন কোনো যুক্তি খুঁজে পাই না, যা আমাকে আশ্বস্ত করতে পারে।"তিনি আরও যোগ করেন, "এই সংকট ২০২৭ সালেও কোনো না কোনোভাবে চলতে থাকবে। নতুন করে কোনো ক্ষত তৈরি না হলে বিশ্ব তখনো বর্তমান সংকটের ক্ষত সারিয়ে তোলার চেষ্টা করবে।"বর্তমান সংকটের প্রভাব সম্পর্কে আইইএ প্রধান জানান, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্ভূত সংকট বিশ্ব অর্থনীতি, কৃষি খাত এবং জ্বালানি খাতকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের সরকার, কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ ও ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক তেলসংকটের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের ওই সংকটগুলোই সেসময় পারমাণবিক জ্বালানির উন্নয়ন এবং যানবাহনের জ্বালানিদক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছিল।বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে তুরস্কের জন্য একটি ‘সোনালি সুযোগ’ এবং বিশ্বের জন্য বিশাল সম্ভাবনা হিসেবে অভিহিত করেন ফাতিহ বিরোল। তিনি বর্তমান সংকটকে কাজে লাগিয়ে এই সম্মেলনে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জোরালো আহ্বান জানান। বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহারে বর্তমানে বিদ্যুতের অংশ ২৩ শতাংশ রয়েছে, যা বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।এই লক্ষ্য অর্জনে আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে বিভিন্ন দেশকে প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়ে বিরোল বলেন, "বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ালে একদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর মতপার্থক্যের এই সময়ে এটি দেশগুলোর জন্য একটি অভিন্ন লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।"
এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি গৃহীত হলে তা বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজারের কাছে একটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে বলে তিনি মনে করেন। সম্মেলনের সফলতা নির্ধারণের মাপকাঠি সম্পর্কে আইইএ প্রধান স্পষ্ট করে জানান, কপ-৩১ সম্মেলনের সাফল্য মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে; কতটি দেশ এতে অংশ নিচ্ছে এবং বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে দেশগুলো কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারছে কি না।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗