নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে সারের তীব্র সংকট, দুই দফায় বাড়ানো জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নদী খননের নামে সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কৃষক নেতাদের দাবি, যশোর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে বৈজ্ঞানিক পথ না মেনে সরকার অপরিকল্পিত নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ১৪০ কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় করেছে। যা ভবদহ ও আশপাশের এলাকার মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
শুক্রবার সকালে যশোর সদর উপজেলার মনোহরপুর বাজারে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সদর থানা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদী হাটসভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
হাটসভায় কৃষক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ভবদহ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা, বন্যা ও লবণাক্ততা নিরসনে লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে প্রমাণিত একমাত্র পথ হলো বিলে বিলে অবাধ জোয়ার-ভাটা প্রবর্তন (টিআরএম) এবং পলি অবক্ষেপণের মাধ্যমে বিলের নিচু ভূমি উঁচু করা। কিন্তু সরকার সেই টেকসই পথে না হেঁটে ভুল পদ্ধতিতে ড্রেজিং চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, ভদ্রা, শ্রী ও হরি নদীতে আড়াআড়ি ক্রস বাঁধ দিয়ে খননকাজ করায় ভাটি অঞ্চলের পলি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। উপরন্তু নদীর মাটি কেটে নদীর মধ্যেই ফেলার কারণে নদীগুলো শুকিয়ে ছোট খালে পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমের আগেই পুরো অঞ্চল স্থায়ী জলাবদ্ধতার হুমকিতে পড়েছে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার ব্যবহার এবং পূর্বে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ও যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপির আশু, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।
কৃষি খাতের বর্তমান সংকট তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মাঠে মাঠে এখন সারের হাহাকার। জেলা প্রশাসন থেকে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে কৃষকেরা সরকারি নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না। সারের জন্য ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চাষিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ও প্রয়োজনের তুলনায় কম সার কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ডিজেলের দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি ও গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুতের তীব্র বিভ্রাট যুক্ত হয়ে চলতি মৌসুমের কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
হাটসভা থেকে পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী নীতির কড়া সমালোচনা করে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশীয় কৃষক ও কৃষি খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে সরকার বহুজাতিক স্বার্থ রক্ষা করছে।
যশোর সদর থানা কৃষক সংগ্রাম সমিতির নেতা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে হাটসভাটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্বাস। সভায় প্রধান বক্তা ও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি যশোর জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোহরাব উদ্দিন মাস্টার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর সদর থানার সভাপতি শাহারিয়ার আমির, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর সদর থানার সাধারণ সম্পাদকঅ্যাডভোকেট আহাদ আলী লস্কর প্রমুখ।
হাটসভা থেকে কৃষক-জনতার জীবন-জীবিকা রক্ষা এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করার দাবিতে শিগগিরই বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
