যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তবে কীভাবে সেই চুক্তি করতে হয়, তা তেহরান জানে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইয়ংস্টাউনে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু কীভাবে করতে হয়, তা জানে না। তারা জানে না কীভাবে কী করবে।’
এ সময় ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প আবারও বলেন, দেশটিকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে তাদের কোনো নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী নেই, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই। বিশ্বের যেকোনো দেশের মধ্যে তাদের মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে খারাপ, তাদের কোনো অর্থও নেই।’
এ সময় তেলের দাম নিয়েও পূর্বাভাস দেন ট্রাম্প। তার মতে, ‘তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে আসবে।’
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওমানের উপকূলীয় জলসীমা ব্যবহার করে তেল ‘পাচারের’ অভিযোগ তুলেছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি। এ কাজে ‘গুণ্ডাদের’ নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সামরিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধানও জড়িত বলে দাবি করেছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএর প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব রেজায়ি বলেন, ট্রাম্প প্রতিদিন দাবি করছেন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনারা তেল পাচার করছেন। কিন্তু প্রণালিটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আমরাই এটি পরিচালনা করি।’
রেজায়ির দাবি, এ কার্যক্রমে কয়েকটি ছোট নৌযান ব্যবহার করে তেল বড় ট্যাংকারে স্থানান্তর করা হয়। ইরান প্রতি রাতেই এসব নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করে বলেও দাবি করেন তিনি।
সূত্র : আল জাজিরা
